কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে জোয়ারের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া মোহাম্মদ হারুন (২০) নামের এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে হিমছড়ি সাগর বিলাস এলাকায় স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। নিহত হারুন চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার শেরশাহ জামতলা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কবিরের ছেলে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজন পর্যটকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন।
রামুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, নিখোঁজ থাকা অন্য পর্যটকের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও লাইফ গার্ডের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত বিচ কর্মী মাহবুবুর রহমান জানান, জোয়ারে ডুবে যাওয়া স্থানের কাছাকাছিই সকালের দিকে মরদেহটি ভেসে ওঠে।
এর আগে বুধবার এই দুর্ঘটনায় তিন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁরা হলেন ঢাকার উত্তরায় দিয়াবাড়ির বাসিন্দা আল মাহিবুল ইবনে মোকাররম ওরফে রোহান (২৩), দক্ষিণখানের সাইফুল হক ওরফে জিসান (২৩) এবং উত্তরার আজিমপুরের নাফিসুল হক (২২)। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার পর্যটকদের দুটি দল প্যাঁচার দ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন রেজুখাল পেরিয়ে সমুদ্র ও খালের মাঝের চরে ঘুরতে গিয়েছিল। বিকেলবেলা হঠাৎ জোয়ার শুরু হলে পানি বেড়ে চরটি তলিয়ে যায় এবং পর্যটকেরা স্রোতে ভেসে যান। তাঁরা হলেন ঢাকা উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মোকাররম হোসেনের ছেলে আল মাহিবুল ইবনে মোকাররম ওরফে রোহান (২৩), দক্ষিণখান এলাকার মাহবুবুল হকের ছেলে সাইফুল হক ওরফে জিসান (২৩) এবং উত্তরার আজিমপুরের নাবিবুর রহমানের ছেলে নাফিসুল হক (২।
দুর্ঘটনার সময় স্থানীয়রা চট্টগ্রাম থেকে আসা অপর তিন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তাঁদের মধ্যে রাকিব হাসান (১৯) ও মো. সানী (২০) চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার এবং মো. আকাশ নামের অপর পর্যটকের বাড়ি নোয়াখালীতে। বর্তমানে তাঁরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

