খোলামেলা পোশাকে অস্বস্তির কথা জানালেন রাশমিকা মান্দানা

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজস্ব স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সবসময় প্রাধান্য দেন। তাঁর মতে, কোনো চরিত্রে অভিনয় করতে গেলেই সব শর্ত বা খোলামেলা পোশাকে রাজি হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে পেশাদার জীবনে নিজের আপত্তির কথা নির্মাতাদের কাছে তুলে ধরা যে সবসময় সহজ হয় না, তা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। রাশমিকা নাকি বিজয়, কে দিয়েছিলেন বিয়ের প্রস্তাব।

‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে নিজের সঙ্গী বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে অভিনয়শিল্পীদের স্বাধীনতা ও পর্দায় শরীর প্রদর্শনের বিতর্ক।

এ সময় আলোচনায় স্থান পায় রাম চরণের ‘পেদ্দি’ সিনেমায় জাহ্নবী কাপুরের চরিত্র ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কিত পরিস্থিতির বিষয়টি। বিশেষ করে জাহ্নবীর চরিত্রের উপস্থাপন ও ক্যামেরার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দর্শকদের যে আপত্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে তাঁরা মতবিনিময় করেন। দর্শকরা অভিযোগ তুলেছিলেন যে, চরিত্রের ব্যক্তিত্বের চেয়ে শারীরিক সৌন্দর্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সংলাপ ও চুম্বনের দৃশ্যেও স্পষ্ট ছিল। ওই বিতর্কের পর সিনেমার কিছু অংশ ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। বুচি বাবু সানা পরিচালিত ছবিটি মুক্তির পর জাহ্নবীর চরিত্র অচিয়াম্মার উপস্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

রাশমিকা জানান, বাণিজ্যিক সিনেমার প্রয়োজনে অনেক সময় বিকিনি বা খোলামেলা পোশাক পরার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এমন পোশাক পরতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তিনি পরিচালকদের কাছে নিজের সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর পছন্দের নির্মাতারা তাঁর সিদ্ধান্ত ও পছন্দকে সম্মান জানান। তবে অনেক সময় দ্বিধাগ্রস্ত হলে তিনি বিজয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাঁর কাছ থেকে সমর্থন পেলে সংশ্লিষ্টদের কাছে নিজের অবস্থান জানাতে সাহস পান।

বিজয় দেবরকোন্ডা এই বিষয়ে বলেন, চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর অভিনয়শিল্পীদের ওপর এক ধরনের অদৃশ্য চাপ তৈরি করা হয়। তাঁদের বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, তারা কাজ করতে সম্মত হয়েছেন, তাই চরিত্রের প্রয়োজনে সবকিছু করাই তাদের দায়িত্ব। এতে আপত্তি জানালে অনেক সময় শিল্পীদের অপেশাদার হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এই ভয় থেকে অনেক শিল্পী অস্বস্তি নিয়েও দৃশ্যে কাজ করতে বাধ্য হন। বিজয়ের মতে, নির্মাতাদের এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে শিল্পীরা কোনো ভয় ছাড়াই তাদের অস্বস্তির কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারেন এবং প্রয়োজনে ‘না’ বলার সাহস রাখেন। সেই আশঙ্কা থেকেই অনেক অভিনয়শিল্পী আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যে রাজি হয়ে যান।