মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার জেরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুখ খুলেছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাকে তলব করেছিলেন বলে তিনি জানান। ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বিস্তারিত আলাপ হয়েছে এবং আলোচনার ভিত্তিতেই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শপথ গ্রহণের মাত্র নয় মাসের মাথায় তিনি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেন। এই ঘটনায় হইচই শুরু হলে ১২ ঘণ্টা পার না হতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। শপথ নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় সেদিনই তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা ছাড়লেন ইশরাক।
ইশরাক হোসেনের ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কয়েক দফা আলোচনা হয়। তিনি জানান, দুপুরে তাকে সময় দেওয়া হয়েছিল এবং দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে ক্যাবিনেট মিটিং শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে চলে যান। ইশরাক তখন পাশের একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি পুনরায় ক্যাবিনেট মিটিংয়ে যোগ দেন এবং নির্ধারিত আসনে বসেন। মিটিং শেষে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তাদের কথা হয় এবং আলোচনার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের কর্মপন্থা চূড়ান্ত করা হয়। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি। আলোচনা শেষে পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করব, সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই।’।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে দলের কোনো ক্ষোভ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক দলই চায় না তাদের মন্ত্রিসভার সদস্য পদত্যাগ করুক। তিনি কিছু সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে বলেন, তাকে ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে। এছাড়া তার এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনেক বিরোধী দলীয় নেতাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সংহতি প্রকাশ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারা যে কোনো উপায়ে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে আমার নেতা, প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়।’। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠে মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক ও তার সহযোগীরা। এ সময় তার অস্ত্র হাতে মাদক বিক্রেতাদের ধাওয়া করার দৃশ্য ভিডিওতে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক তৈরি হয়। ইশরাকের দাবি, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কবার্তা অনুযায়ী মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার ঝুঁকি ছিল। আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই তিনি ও তার নিরাপত্তাকর্মীরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। প্রসঙ্গত, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। ইশরাক বলেন, শনিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে ইশরাক হোসেনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। যদিও শুরুতে ইশরাক এই দাবিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছিলেন, কিন্তু সোমবার সকালে তিনি নিশ্চিত করেন যে তিনি পদত্যাগ করেছেন। ভবিষ্যতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে ইশরাক জানান, তার মূল কর্মীরা ২০২০ সাল থেকেই তাকে ওই পদে দেখতে চেয়েছেন এবং তাদের সেই প্রত্যাশা এখনো অটুট আছে।

