বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে ধস নেমেছে।

আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠককে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য ৪ হাজার ১১৫ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন বুধবার দাম কমে ৪ হাজার ১০৪ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমেছিল, যা গত ১৫ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। এছাড়া ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩২ ডলার ৩০ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের এখন মূল নজর ফেডের সিদ্ধান্তের দিকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির প্রধান লক্ষ্য মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশের কোটায় নামিয়ে আনা। এজন্য আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের ওপর বাজার বিশ্লেষকদের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। ফেডওয়াচ টুলের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৬ শতাংশ থাকলেও, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের বিনিয়োগ আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এতে কোনো সুদ পাওয়া যায় না, যা সরাসরি দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর মধ্যেই স্বর্ণের বাজারে চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি বুঝতে ফেড এই সূচকটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে। গণমাধ্যমটির জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব অর্থনীতিবিদের ধারণা, অক্টোবরে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে ফেড। তবে ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হতে পারে। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন তারা। ফলে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায় এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

স্বর্ণের এই দরপতনের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমেছে। একই ধারায় প্লাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬০৯ ডলার ৯৫ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৮ ডলার ৫২ সেন্টে লেনদেন হয়েছে। বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।