আটলান্টিকের নাম বদলাতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, বাধার মুখে গুগল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে পুনরায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তার এই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটেছেন। তার দাবি, গুগলের আপত্তির কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। সাউথ ক্যারোলিনার ক্লেমসনে এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে ট্রাম্প তার এ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, এর পেছনে আছে গুগলের আপত্তি। এরপর বলেন, ‘আমাদের একটা হ্রদ আছে। এবার তার নজর আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে। সেখানে তিনি এ পর্যন্ত বদলানো নামগুলোর তালিকা দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘না, না, না, এবার আমি এটা করব না, (পিচাই) বলল।

ট্রাম্প জানান, তিনি গুগল ম্যাপসে মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। আগের বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুগল তাকে সহায়তা করলেও, মহাসাগরের ক্ষেত্রে তারা অস্বীকৃতি জানায়। পিচাই তাকে বুঝিয়ে বলেন, মহাসাগরগুলো অনেক দেশজুড়ে বিস্তৃত, তাই এগুলোর নাম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ফলে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেন যে, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম আর পরিবর্তন করা হবে না।

এর আগে ১০ অক্টোবর টেনেসির ক্লার্কভিলের সমাবেশে ট্রাম্প আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ কিংবা ‘আমেরিকাসের মহাসাগর’ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এছাড়া হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার কথাও তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন। তবে তিনি জানান, হাডসন বা মিসিসিপি নদীর নাম পরিবর্তনের কোনো অভিপ্রায় তার নেই। মহাসাগর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মাত্র দুটি মহাসাগর পছন্দ। সে বলল, মহাসাগর আলাদা জিনিস, স্যার।

ট্রাম্পের এই নাম পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নতুন কিছু নয়। গত বছর তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ ঘোষণা করেছিলেন। এছাড়া এ বছরের আগস্টে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার সময় তিনি অন্টারিও হ্রদের নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দেন। গুগল ও অ্যাপল ম্যাপস কর্তৃপক্ষ এই পরিবর্তনগুলো গ্রহণ করলেও ম্যাপকোয়েস্ট এবং কানাডার সরকারি মানচিত্রে আগের নামই বহাল রাখা হয়েছে। হ্রদের (আমেরিকা) ব্যাপারে তারা খুব ভালো সহযোগিতা করেছিল।

সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, নাম পরিবর্তনের ফলে নিউ মেক্সিকো রাজ্যের মর্যাদা বাড়বে, তাই এর নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখা যেতে পারে। তবে মহাসাগর বা প্রণালির নাম বদলের এই দাবির প্রেক্ষিতে গুগল বা সুন্দর পিচাইয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প নিজেই পুরো বিষয়টি তার সমর্থকদের সামনে বর্ণনা করেছেন। তবে এই কথোপকথন সত্যিই হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

মূলত ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তিনি মহাসাগর বা নদীর নামকরণের ক্ষেত্রে বেশ আগ্রহী হলেও গুগলের কারিগরি বা নীতিগত আপত্তির কারণে মহাসাগর নিয়ে তার পরিকল্পনা আর এগোয়নি। তিনি সরাসরি গুগল ম্যাপস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, সুন্দর পিচাইয়ের পরামর্শ মেনেই তিনি আটলান্টিক মহাসাগরের নাম আটলান্টিকই রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। নদীর নাম নিয়ে অবশ্য ট্রাম্পের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এমন অদ্ভুত নামকরণের প্রস্তাব রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিলেও, বাস্তবে এর বেশিরভাগই কোনো স্বীকৃতি পায়নি। শুধুমাত্র মেক্সিকো উপসাগর এবং অন্টারিও হ্রদের নাম বদলের ঘোষণা দিয়ে তিনি তা গুগল ও অ্যাপলের ম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যদিও কানাডার ফেডারেল মানচিত্রে তার এই পরিবর্তনের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।