কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে এবং সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে প্রাণনাশের ঘটনায় তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পুলিশের মিডিয়া সেল শুক্রবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ও ৭ম শ্রেণির স্কুল ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার আসামি হিসেবে রয়েছেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) ও মো. সিয়াম (১৯)। এছাড়া ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী আরও দুই কিশোরকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই অপ্রতিমকে প্রাণনাশের ঘটনাটি ঘটে। এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ আজ শুক্রবার সকালে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড।
অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বৃহস্পতিবার রাতে অবগত হয়েছেন এবং তিনি মামলার দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছেন। এর আগে গত শনিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এই নৃশংস ঘটনাটি তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের জন্ম দেয়। অপ্রতিমকে প্রাণনাশের ঘটনার পর কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং বিরোধী সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, মামলার তদন্তে অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধেই অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

