ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের চার দিন আগে চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে নিষেধাজ্ঞা আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসরাইলকে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে এবং এমন অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে যা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন সচল রাখতে সক্ষম। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কাজ শুরু করেছেন।
নিষেধাজ্ঞার মুখে আর্থিক লেনদেন চালু রাখার উপায় হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন নেতানিয়াহু। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি তাতে সম্মতি জানান। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহারকেও একটি কার্যকর বিকল্প বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য তিনি উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ব্লকচেইন ব্যবহারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। চ্যানেল টুয়েলভের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা এই ধারণা নাকচ করে বলেছেন, এটি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে এবং এমন আলোচনা অর্থনীতির ক্ষতি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক চাপের কেন্দ্রে থাকা পশ্চিম তীরের বসতি পণ্যের ওপর ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং বসতি নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এর নেতিবাচক প্রভাব ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়বে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাবি করছেন, সরকারের ভুল নীতির কারণেই ইসরাইল নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার সম্মুখীন।
সামরিক সহায়তার বিষয়েও কঠোর বাস্তবতা সামনে এনেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন থেকে আসা বহু কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ অনির্দিষ্টকাল পাওয়া যাবে না। তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, অতীতে দুইবার প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য বিপুল সহায়তা নিশ্চিত করা গেলেও ভবিষ্যতেও যে তা পাওয়া যাবে, এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। তার মতে, আমেরিকা বদলে গেছে এবং এই সহায়তার সময় শেষ হয়ে আসছে। এর পেছনে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি দায়ী বলে তিনি মনে করেন।
নেতানিয়াহুর এই সাক্ষাৎকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। ‘বেয়াখাদ’ দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করছেন যে তার সরকার ক্ষমতায় থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে। ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ নেতা ইয়াইর গোলানও একই প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, নেতানিয়াহু বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।

