হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে হামলা: মামলার বাদীকে ফোনে হুমকি

রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দীনের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা তুলে নিয়ে সমঝোতা করার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে হুমকির অডিও রেকর্ড সরবরাহ করেছেন ভুক্তভোগী। অডিওটি পর্যালোচনার পাশাপাশি হুমকিদাতাকে শনাক্তের কাজ চলছে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি বাদীর সঙ্গে কথা বলেছি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিকদার মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিস ভাঙচুর করে ল্যাপটপ, সিসি ক্যামেরা এবং ডিভিআর লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের নাম ভাঙিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

হুমকিদাতার কথোপকথন থেকে জানা যায়, মামলাটি থেকে সরে আসার জন্য বাদীকে প্রবল চাপ দেওয়া হচ্ছে। অডিওতে হুমকিদাতাকে বলতে শোনা যায়, শনিবারের মধ্যে যোগাযোগ করে ঝামেলা মিটিয়ে না ফেললে ভুক্তভোগীর প্রাণ সংশয় হতে পারে। এক পর্যায়ে বাদী নিজে প্রতিষ্ঠানের মালিক নন জানালে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, মালিক না হয়েও তিনি কেন মামলার বাদী হলেন, তা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা হয়। এছাড়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এসময় বাদী বলেন, কোনটা ভাই। জবাবে হুমকিদাতা বলেন, কোনটা আপনি বোঝেন না!”।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের হুমকি পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি বর্তমানে বাদীকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার উৎস এবং এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে কাজ চলছে। পুরো পরিস্থিতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মামলার সঠিক তদন্ত এগিয়ে নিতে পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।