জাতীয় নাগরিক পার্টির ১৯৫ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তিশালী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ১৯৫ সদস্যের একটি পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে দলের দপ্তর সেল সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই কমিটির নাম ও বিভিন্ন পদে দায়িত্বরতদের নাম প্রকাশ করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে থাকছেন আখতার হোসেন। এছাড়া ১৬ সদস্যের রাজনৈতিক পর্ষদে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের পাশাপাশি রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিক মুজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।

কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এছাড়া সামান্তা শারমিন, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আবদুল হক, মাহবুব আলম, মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল ও এ কে ফ্লোরাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে আছেন আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, এসএম সাইফ মুস্তাফিজ, মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক ও মো. আতাউল্লাহ।

নতুন এই কমিটিতে বিভিন্ন দাপ্তরিক ও সম্পাদকীয় বিভাগের দায়িত্ব বিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক, দপ্তর, আইন, প্রচার, শিক্ষা, নারী বিষয়ক, গণমাধ্যম, ধর্ম, সংস্কৃতি, শ্রম, তথ্যপ্রযুক্তি, মানবাধিকার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার (ঢাকা উত্তর), এ এস এম সুজাউদ্দীন (চট্টগ্রাম দক্ষিণ), নাভিদ নওরোজ শাহ (চট্টগ্রাম উত্তর) এবং ইমরান ইমন (রাজশাহী)। এছাড়া কমিটিতে ১৯ জন সহ-সম্পাদক ও ৫৮ জন সাধারণ সদস্য যুক্ত হয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা এখন আরও বেগবান করা হচ্ছে। মূলত আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল সফল করার প্রস্তুতি হিসেবেই এই পুনর্গঠন সম্পন্ন করা হয়েছে। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।