ইরানে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের মধ্যে নজিরবিহীন বিরোধ

Published: October 26, 2026, 5:25 am

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত একটি সামরিক নির্দেশ কার্যকর করতে সেনাপ্রধান আপত্তি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্দেশ বাস্তবায়নের ফলে ইরানের সঙ্গে দ্রুত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন খোদ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তার কোনো ইঙ্গিত আমরা দেখছি না।

সূত্র মারফত জানা গেছে, নেতানিয়াহুর নির্দেশিত সামরিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর করতে বাধা দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জামির। এমনকি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং অভিযানের আইনি অনুমোদনের স্বপক্ষে লিখিত নথিতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর চেয়েছেন তিনি। যদিও ঠিক কী ধরণের সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ২৪ ঘণ্টায় এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে এবং ইসরাইলের সামরিক সেন্সরশিপের নীতি মেনেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। চ্যানেল ১২ জানায়, ২৪ ঘণ্টায় এ বিরোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার দাবি, এই নির্দেশটি এমন একটি পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত যা ইরানের সঙ্গে বড় ধরণের সংঘাত তৈরি করতে পারে। এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্তের আশঙ্কায় সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভোটের আগে ইরান ইস্যুকে নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান তারা। এদিকে পালমাহিম বিমানঘাঁটিতে গত রোববার আলোচনার সময় নেতানিয়াহু ও জামিরের মধ্যকার তিক্ত পরিস্থিতি ও উত্তেজনা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। বৈঠককক্ষের পরিবেশ ছিল ‘অত্যন্ত তিক্ত’।

নেতানিয়াহু অবশ্য চ্যানেল ১৪-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তার এবং জামিরের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকার বিষয়টি ‘বাজে কথা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ওই সাক্ষাৎকারের অন্য এক অংশে তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি আইডিএফ এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ইরানের সরকার উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও সাম্প্রতিক সামরিক নির্দেশের সঙ্গে এই বক্তব্যের সরাসরি যোগসূত্র নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার চ্যানেল ১৩-এর খবরে বলা হয়, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জামির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার কোনো সামরিক প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না। চ্যানেল ১৪-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে নেতানিয়াহু একে ‘বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দেন।

সেনাপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি সত্যিই ইরানে হামলার প্রয়োজন হয়, তবে তারা সে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো যৌক্তিকতা নেই। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর চেষ্টা করছেন, যাতে নির্বাচনে নিজের অবস্থান শক্ত করা যায় অথবা ভোট পেছানো সম্ভব হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই এমন উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জামিরের ভূমিকা নিয়ে জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন যে, ইতিহাস তার এই অবস্থানের কথা মনে রাখবে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে নিজের সম্ভাবনা বাড়ানো কিংবা ভোট পেছানোর উদ্দেশ্যেও তিনি এমন উদ্যোগ নিতে পারেন।