নেতানিয়াহুর প্রতি আবারও প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

Published: October 26, 2026, 3:39 am

আগামী মঙ্গলবার ইসরাইলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। জনমত বিভক্ত থাকা এই নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তার বিচারে বেশ চাপে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি ভেঙে ট্রাম্প তার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত রোববার এক বিবৃতিতে ইসরাইলিদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করতে হবে। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে দুই নেতা মিলে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা ‘কাজ শেষ করার’ সুযোগ পাবেন। টাইমস অব ইসরাইলের তথ্যমতে, এর কয়েক ঘণ্টা আগে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, নেতানিয়াহু নিজেই ট্রাম্পের কাছে প্রকাশ্যে সমর্থনের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। জনমত জরিপগুলো বলছে, নেতানিয়াহুর জোট সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অবস্থানে বেশ পিছিয়ে আছে। নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা ট্রাম্পের প্রথম সমর্থন ঘোষণাকে ব্যাপকভাবে প্রচার করেছিলেন। তবে তার আগে নির্বাচনে আর কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তা দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইসরাইলিদের জন্য এক সপ্তাহ আগে দেয়া তার সমর্থনের বক্তব্যটিই তিনি আবারও তুলে ধরছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিবি’ নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং অতীতে তারা একসঙ্গে অনেক বিজয় অর্জন করেছেন। ট্রাম্প নিজের সাফল্য দাবি করে বলেন, ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত সামরিক অভিযান ইতিহাসের অন্যতম সফল পদক্ষেপ। এরপর তিনি ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, এর মাধ্যমে ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও অর্থনীতি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ইরানে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং দেশটি তেলের সংকটে ভুগছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিগুলোর নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর মাধ্যমে বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছি। এমনকি ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০১ শতাংশে পৌঁছেছে। নৌ অবরোধের কারণে তারা তেল পাচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক- দুই পর্যায়ের নেতৃত্বই হারিয়ে গেছে।

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপে অস্বস্তি প্রকাশ করে বলেছেন, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সম্মান করলেও ইসরাইলের নেতা নির্বাচনের ভার ইসরাইলিদেরই হওয়া উচিত। ট্রাম্প এর আগেও বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলে প্রচলিত মার্কিন রীতি ভঙ্গ করেছেন। বছরের শুরুর দিকে ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করতে না পারায় নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্প বিরক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সময় খবর প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো ধরনের চুক্তি ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন উদ্বেগ থেকে দুই নেতার মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছিল। জুন মাসে লেবাননে সংঘাতের সময় ট্রাম্প এমনকি নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনাও করেছিলেন।

নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে নেতানিয়াহু তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি এআই-নির্মিত ছবি শেয়ার করে ভোটারদের সতর্ক করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাকে জয়ী না করলে ইসরাইল ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ ঝুঁকিতে পড়বে এবং ইরানকে মোকাবিলার জন্য ট্রাম্পের ক্ষমতার সময়কালই শেষ সুযোগ। অথচ গত মার্চ ও গত মাসে জাতিসংঘে দেয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু নিজেই দাবি করেছিলেন, ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দেশটি আর অস্তিত্বের হুমকি নয়। তার এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা চলছে। তিনি বারবার বলেছেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে তিনি সতর্ক করে বলেন, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে ইসরাইলিরা ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ‘আমাদের ক্ষমা করবে না’ বলেও সতর্ক করেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে বা ভোট পেছানোর কৌশল হিসেবে তিনি আবারও যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন, যদিও তিনি এই অভিযোগ বারবার নাকচ করেছেন। এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু ও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামিরের মধ্যে নজিরবিহীন মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব চলছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। ওয়াশিংটন যখন তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করে সমঝোতায় পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয়, তখন দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে বলে খবর প্রকাশিত হয়। নেতানিয়াহুর সমালোচকরা সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে কিংবা ভোট পিছিয়ে দিতে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করছেন।