আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্যে সরকার বিব্রত, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রধানমন্ত্রী

Published: October 28, 2026, 2:31 am

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’—এমন মন্তব্য নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এমন মন্তব্য করা সমীচীন হয়নি। ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলে আইজিপির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আইজিপি একজন সহজ-সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের কথা বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত তিনি এটি বলে ফেলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকার ক্রসফায়ার চায় না বরং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, আইনের শাসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এখন পর্যন্ত ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো কোনো ঘটনার নজির নেই। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টায় দেশের ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন। যদি স্লিপ অব টাং করে বলেন তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু এটা তো সরকারকে বিব্রত করার মতো অবস্থা।

সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, আইজিপির ক্রসফায়ার ইস্যু এবং সাংবাদিকদের নিয়ে করা অশোভন মন্তব্যের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর পর্যালোচনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ সদর দপ্তর ইতোমধ্যে একটি বিবৃতির মাধ্যমে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে। আইজিপি নিজেও তার বক্তব্য পরিষ্কার করে বিভ্রান্তি দূর করেছেন এবং নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এ ধরনের বিভ্রান্তি আর না থাকাই শ্রেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এরপর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, এ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা কেটে যাওয়া উচিত।

অন্যদিকে, যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা শোনাটা খুবই উদ্বেগজনক। ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ ও গুম-খুনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি মানবিক বাংলাদেশ। অথচ বাহিনীর প্রধান হয়ে এমন বক্তব্য মানুষকে হতাশ করছে। রিজভী আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা আছেন, তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিলে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। সস্তা ক্রেডিট নেওয়ার জন্য এমন বক্তব্য সরকারের ভাবমূর্তিকে আঘাত করে এবং সরকারের বিব্রতকর অবস্থার জন্য তা দায়ী। যে ১৭ বছর আমরা এই ক্রসফায়ার, গুম, গুপ্তহত্যা, রক্তঝরানো অমানবিক দুঃশাসন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিণতিতে ৫ই আগস্ট পেলাম।