দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশ-জাপান একমত

Published: October 27, 2026, 4:58 am

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষে দুই দেশের সরকারপ্রধান কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছেন। বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। এদিন বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছালে জাপানের সরকারপ্রধান তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়, এরপরই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকটি শুরু হয়। জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রায় জাপান গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম স্বীকৃতাদানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই বাংলাদেশি নাগরিকদের হৃদয়ে জাপানের জন্য একটি বিশেষ স্থান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজকের আলোচনায় আমরা শক্তি, আইসিটি, অবকাঠামো এবং বাণিজ্য খাতের মতো অগ্রাধিকার বিষয়গুলোতে একমত হয়েছি। আমরা জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছি। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হিসেবে কাজ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তারেক রহমান আরও জানান, এবারের সফরের মাধ্যমে দুই দেশ সম্পর্ক দৃঢ় করতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এই বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য। এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি, যা দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই উত্তরাধিকার বয়ে আনবে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি উল্লেখ করেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক অনেক বেশি সুদৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ স্তরে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

উভয় নেতা শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা মনে করেন। যৌথ ঘোষণায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল ও অগ্রাধিকারগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

পরিশেষে, দুই প্রধানমন্ত্রীই তাদের এই যৌথ যাত্রাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। জাপানি প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশই একে অপরের জন্য আরও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।