হুতিদের: সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ৬ হামলার

Published: October 30, 2026, 6:04 am

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে ছয়টি আলাদা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, রিয়াদ, নাজরানসহ দেশটির পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় বিভিন্ন অঞ্চলে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগ তেল শোধনাগার এবং নাজরান অঞ্চলে অবস্থিত সৌদি সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর। এছাড়া রাস তানুরা তেল শোধনাগার ও আবকাইক এলাকায় সৌদি আরামকোর স্থাপনাতেও আঘাত হানার দাবি করেছে তারা।

এই হামলার দাবির আগেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রাজধানী রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার ভাষ্যমতে, ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো ছড়িয়ে পড়ায় রিয়াদে এক সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করার আগে রিয়াদ, আল-খারজ প্রদেশ এবং নাজরান শহরে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে হুতিদের ঘোষিত হামলার দাবির বিষয়ে স্বতন্ত্র কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে জানান, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একটি বাড়ি ও একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানে সৌদি আরব ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে দুই পক্ষ সংলাপের মাধ্যমে হুতি-সৌদি সংঘাত নিরসনের বিষয়ে একমত পোষণ করেছিল। আলোচনার পর ইতিবাচক বার্তা এলেও কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। সৌদি-হুতি যুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রমিক কেন আলোচনার কেন্দ্রে।