যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ হাজার অভিবাসন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

Published: October 29, 2026, 4:03 am

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মকর্তা ও কর্মীর ব্যক্তিগত এবং দাপ্তরিক তথ্য বেহাত হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের তালিকায় এসব কর্মকর্তার নাম, কর্মস্থলের ঠিকানা, ফোন নম্বর ও দায়িত্বের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন কোনো সংস্থায় হওয়া এটি তৃতীয় বড় সাইবার হামলার ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রায়ই মুখ ঢেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে এমন কোনো পরিচয়পত্রও পরেন না।

ডিএইচএস এক মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, তারা এই সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটিয়েছে ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামের একটি গোষ্ঠী। এরপর সাংবাদিক মাইয়া ক্রিমিউ এবং ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (ডিডসিক্রেটস) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্যগুলো অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এসব তথ্য ‘আইসপিক’ নামক একটি ডাটাবেজে সংরক্ষিত ছিল। ওকটার এক মুখপাত্র বলেছেন, কোম্পানিটি এ সংক্রান্ত দাবিগুলো সম্পর্কে অবগত। ওকটা একটি জনপ্রিয় অনলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ফাঁস হওয়া তথ্যের বিশাল একটি অংশে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) বিভাগের ২১ হাজারের বেশি কর্মকর্তা এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কর্মীর প্রোফাইল রয়েছে। এছাড়া ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস ও সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কর্মকর্তাদের তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালিকায় এমন অনেক অভিযানের গোপন বিবরণ রয়েছে যা আগে কখনো জনসমক্ষে আসেনি। এর মধ্যে বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত সহায়তার তথ্যও রয়েছে, যার মধ্যে সেলব্রাইট ও পালান্টিরের নাম উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে, ডিএইচএসের পুরো তালিকা প্রকাশ তাদের উদ্দেশ্য ছিল না, বরং গোপনীয়তার আড়ালে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ছিল মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্মে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিরা প্রবেশ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে এটি ব্যবহার করে।

ডিডসিক্রেটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত জটিল। এতে ছদ্মবেশী অভিযানের তদারককারীদের পরিচয় এবং সরকারবিরোধী তথ্য ফাঁসকারীদের অনুসন্ধানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া ডিএইচএসের বহিষ্কার কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তথ্যও ফাঁস হয়েছে। ২০২০ সালের আলোচিত ‘ব্লুলিকস’ বা পুলিশি তথ্য ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে এর তুলনা করছেন অনেকে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের বিপুল পরিমাণ তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ‘ব্লুলিকস’ বলা হয়।

ডিপার্টমেন্ট অব পিস জানিয়েছে, তারা ‘ওকটা’ নামের একটি সিঙ্গেল সাইন-অন সেবার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের প্রোফাইলের তথ্য হাতিয়েছে। ওকটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অবগত থাকলেও তাদের নিজস্ব সিস্টেমে কোনো অনুপ্রবেশের প্রমাণ পায়নি। এদিকে, আইসিইর কর্মকাণ্ডের জেরে এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে হামলাকারী গোষ্ঠী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছিলেন তিনি চাপ আরও বাড়াচ্ছেন; যার প্রতিক্রিয়ায় এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ডিএইচএসের নথি হ্যাক করার পেছনে আইসিই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি দায়ী করেছে ডিপার্টমেন্ট অব পিসের একজন মুখপাত্র।