দিল্লির রামলীলা ময়দানে মোদিবিরোধী জোটের বিশাল সমাবেশ

Published: November 1, 2026, 11:45 am

দিল্লিতে বায়ুদূষণ রোধে গাড়ি চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে রামলীলা ময়দানে জনসমাগম নিয়ে সংশয় থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা লাখো মানুষের জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ১২ একরের ময়দানটি দুপুরের মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ময়দানে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বিক্ষোভকারীরা কনট প্লেসসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ময়দানের ভেতরে চার হাজার এবং বাইরে ছয় হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ছুটির দিন হওয়ায় লুটেন্স দিল্লির অফিস ও যান চলাচল সীমিত ছিল। দেখা গেল, দুপুরের মধ্যেই লাখো মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই আর ছিল না ১২ একরের ময়দান। বহু বিক্ষোভকারীকে দেখা যায়, ময়দানে ঢুকতে না পেরে কনট প্লেসের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছেন।

বিক্ষোভের সূচনা নিয়ে গতকাল শনিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলের পরিকল্পনা জানান। দিল্লি পুলিশ জনসভার অনুমতি দিলেও মিছিলের অনুমতি দেয়নি। তবে আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবসহ ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে খোলা গাড়িতে করে রামলীলা ময়দানের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের সঙ্গে হাজারো সমর্থক পায়ে হেঁটে মিছিল করেন। এই মিছিল ময়দানে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়, যার ফলে ভিড় সামলাতে পুলিশকে মূল ফটকগুলো বন্ধ করতে হয়। গতকাল শনিবারই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ইনস্টাগ্রাম বার্তায় জানান, কনট প্লেস–মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে তাঁরা মিছিল করে এক কিলোমিটার দূরে রামলীলা ময়দানে যাবেন। কিন্তু মিছিলের কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সেই সংশয়ও দূর হলো। ঠিক হয়, বিরোধী জোটের নেতারা সবাই হুডখোলা গাড়িতে চেপে রামলীলা ময়দানে পৌঁছাবেন। দুপুর ১২টার আগেই মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তেজস্বী যাদব, এম এ বেবি, ফারুক আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি, দীপংকর ভট্টাচার্য, কল্পনা সোরেন, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউতসহ বিভিন্ন বিরোধী। পুলিশকে ফাঁকি দিয়েছেন ঠিকই, মোদির জন্য কি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারবেন নেহা বোরা। ময়দানজুড়ে উড়তে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা ও জাতীয় পতাকা। গোটা তল্লাটে ছিল বিরোধী কর্মী–সমর্থকদের উপস্থিতি।

সমাবেশটি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘চেম্বার অব ট্রেডার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ এটি ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানালেও আয়োজকরা তা নাকচ করে দেন। এদিকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ তুলেছেন যে, মিছিলে অংশ নেওয়া লোকজনকে কেনাকাটা থেকে বিরত রাখতে এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করে বিরোধীদের দায়ী করার উদ্দেশ্যে বিজেপি জবরদস্তি করে দোকানপাট বন্ধ রেখেছে। ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অব ট্রেডার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে অনুরোধ করা হয়েছিল এই সমাবেশ ১০ দিন পিছিয়ে দিতে। ১ নভেম্বরের এই সমাবেশ বন্ধে বিজেপিও চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি।

এই রাজনৈতিক কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে বিজেপিও সরব ছিল। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর শিখ নিধন দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রোববার পশ্চিম দিল্লিতে নিহত শিখদের স্মরণে বিজেপির মিছিলে নেতৃত্ব দেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা নিরপেক্ষ সংগঠন হিসেবে এই সমাবেশে সরাসরি যোগ না দিলেও, তেলাপোকার পোস্টার হাতে তাদের অনেক সমর্থককে আন্দোলনে সমর্থন জোগাতে দেখা গেছে। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদে সিজেপি এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। মমতাকে দিপকে বলেন, সিজেপি এক স্বাধীন সংগঠন। যারাই ভোট চুরির বিরুদ্ধে ও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন করছে, সিজেপি তাদের সমর্থন করবে। তারা এই প্রচারও করেছিল, ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিহত হওয়ার পর এই দিন দিল্লিতে শিখ নিধন দাঙ্গা হয়েছিল। সেই দিনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর মতো শিষ্টাচার কংগ্রেসিদের দেখানো উচিত।

দিল্লির এই পরিস্থিতির মাঝে দূষণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। পুরো বিষয়টি ঘিরে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।