জামায়াত ছাড়ার সিদ্ধান্তে এনসিপিকে সাধুবাদ রাশেদ খানের

Published: October 31, 2026, 2:27 am

জামায়াত থেকে এনসিপির বেরিয়ে আসার প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেন। রাশেদ খানের মতে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও এনসিপি অনেকটা শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের পথেই হাঁটছে এবং শীঘ্রই তারা জামায়াত জোট থেকে আলাদা হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ও আসিফ মাহমুদের বক্তব্য শুনে এনসিপির এই স্বতন্ত্র অবস্থানের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এনসিপির ভাই ব্রাদারদের কেউ কেউ জানিয়েছে, এখনই ঘোষণা না দিলেও একপ্রকার পিসফুল ডিভোর্সের মত শীঘ্রই জামায়াত জোট থেকে বের হয়ে আসবে এনসিপি।

দীর্ঘদিন পর এনসিপির আজকের গণবিক্ষোভে হাজারেরও বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল। জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পর থেকে দলটির কর্মসূচিতে লোকসমাগম বেশ কম ছিল। বর্তমানের এই জনসমাগম এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনীতির ধারায় আশার সঞ্চার করেছে। তবে, এই বিক্ষোভ থেকে ৩১ অক্টোবরের ডাকা লংমার্চের পক্ষে বড় কোনো বক্তব্য বা প্রচার লক্ষ্য করা যায়নি। এই গণবিক্ষোভ থেকে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চের পক্ষে তেমন কারও বক্তব্য চোখে পড়েনি।

রাশেদ খানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এভাবে স্বতন্ত্র ধারায় রাজনীতি অব্যাহত রাখতে পারলে আগামী এক বছরের মধ্যে এনসিপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। এমনকি আওয়ামী লীগের শূন্যতা পূরণের সম্ভাবনাও তৈরি হবে দলটির মধ্যে। তিনি মনে করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার যে স্বপ্ন এনসিপি বারবার দেখিয়েছে, তা জামায়াতের বলয়ে থেকে অর্জন করা সম্ভব নয়। এখন দলের ভেতর অনেকের মধ্যেই এই উপলব্ধি প্রবল হয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ আজকের এই স্বতন্ত্র কর্মসূচি। এভাবে কাজ করতে থাকলে হয়তো আগামী জাতীয় নির্বাচনেও প্রধান বিরোধীদল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

তবে এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনীতির পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলটির ৮ জন সংসদ সদস্য। তারা জোটের রাজনীতির ওপর নির্ভর করেই আগামীতে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে মরিয়া। যদিও দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী স্বতন্ত্র অবস্থান নেওয়ার পক্ষে। এখন দেখার বিষয়, এনসিপি কি এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে, নাকি জামায়াতের পকেট সংগঠন হিসেবেই রয়ে যাবে। পরিশেষে, দলটির এমন স্বাধীন ধারার রাজনীতির প্রত্যাশায় শুভকামনা জানিয়েছেন রাশেদ খান।