ঘরের কোণে থাকা স্মার্ট স্পিকারের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে চাওয়া শিশুটির উত্তর শুনে মা দুশ্চিন্তায় পড়েন—যন্ত্রটি কি তবে সারাক্ষণই ঘরের কথা শুনছে? আধুনিক স্মার্ট সহকারী বা স্মার্ট স্পিকারগুলো আগে নির্দিষ্ট কিছু আদেশ বুঝতে পারলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়ায় এখন তা আরও উন্নত হয়েছে। বাজারে আসা গুগলের জেমিনাই-চালিত হোম স্পিকার কিংবা অ্যামাজনের অ্যালেক্সা প্লাসের মতো ডিভাইসগুলো একাধিক কাজ একযোগে করতে সক্ষম। ঘরের বাতি জ্বালানো, রিমাইন্ডার সেট করা বা পঞ্জিকা সাজানোর মতো কাজ স্বাভাবিক কথাবার্তাতেই করতে পারে এসব স্পিকার। তবে এসব উন্নত সুবিধা প্রযুক্তিগতভাবে সব দেশে এখনো সমানভাবে উন্মুক্ত হয়নি। নয় বছরের নাঈম (ছদ্মনাম) ঘরের কোণের স্পিকারকে জিজ্ঞেস করল, ‘আজ রাতে কি বৃষ্টি হবে। স্পিকার সুন্দর করে উত্তর দিল, এমনকি জানতে চাইল, ছাতাটা কি সঙ্গে নেবে।
সারাক্ষণ সক্রিয় থাকা এআই ডিভাইসের কারণে বাসাবাড়ির ব্যক্তিগত কথাবার্তা রেকর্ড হওয়ার একটি ঝুঁকি থেকে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এসব সুবিধা ব্যবহারের জন্য মাসিক সাবস্ক্রিপশনেরও প্রয়োজন হয়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, স্পিকারের আলোর বলয় দেখে সেটি কখন কথা শুনছে তা শনাক্ত করা সম্ভব। পাশাপাশি যন্ত্রগুলোতে মাইক্রোফোন বন্ধ রাখার শারীরিক বোতামও দেওয়া থাকে। শিশুটা খিলখিল করে হেসে উঠল, কিন্তু মা ভাবলেন, যন্ত্রটা তাহলে সারাক্ষণ কান পেতেই আছে।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন
- সংবেদনশীল কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় স্মার্ট স্পিকারের মাইক্রোফোন বন্ধ রাখুন।
- নিয়মিত বিরতিতে এআই ডিভাইসে জমে থাকা রেকর্ডিংয়ের ইতিহাস মুছে ফেলুন।
- পাসওয়ার্ড, পিন বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের মতো সংবেদনশীল তথ্য কখনো মুখে উচ্চারণ করবেন না।
প্রযুক্তির সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতেই থাকা উচিত। সচেতনভাবে বোতাম ও সেটিং ব্যবহার করলে প্রযুক্তির সুবিধা এবং নিরাপত্তা—দুটোই নিশ্চিত করা সম্ভব।





