গাজীপুর ও সাভারে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি

Published: November 1, 2026, 9:18 am

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ রোববার ঢাকার সাভার ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা বড় ধরনের বিক্ষোভে নেমেছেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে দুই জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৮০টি কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানার সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সাভারের পরিস্থিতি নিয়ে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, অঞ্চলটির অন্তত অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিনের শুরুতে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। তবে সকালের দিকে নিশ্চিতপুর এলাকার আল-মুসলিম এ্যপারেলস, নিউএইজ গ্রুপ এবং ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর–বাইপাইল সড়কে শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। আজ সকালের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুর থেকে সাভারে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে থাকে। এ সময় তাঁরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দিতে থাকেন। শ্রমিকেরা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিল্প পুলিশ সড়ক থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানালে শ্রমিকেরা রাস্তার পাশে অবস্থান নেন এবং শারমিন গ্রুপের অন্যান্য শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সেখানে বলা হয়, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ অত্র শিল্প এলাকায় সর্বদা আপনাদের পাশে থেকে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সেবা প্রদান করে আসছে।

একপর্যায়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে কর্তৃপক্ষ শারমিন গ্রুপসহ আশপাশের হা-মীম গ্রুপ ও নিউএইজ গ্রুপের কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন জানান, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনা না হওয়ায় তারা বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ। তিনি দ্রুত উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর পক্ষ থেকে মাইকিং করে শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতা ছড়িয়ে পড়েছে। সকালের দিকে রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা হাজিরা দেওয়ার পর কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। দিনব্যাপী আন্দোলনের জেরে কালিয়াকৈরে অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকেরা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর পার্শ্ববর্তী ট্রপিক্যাল পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনেও আগুন দেওয়া হয়। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আন্দোলনের মুখে বাধার কারণে তাঁদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের ফলে গাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।