হরমুজের কাছে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

Published: November 5, 2026, 6:05 am

হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অঞ্চলে নিজেদের নৌবাহিনীর জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বাড়ানোর জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চেওংহে নামে পরিচিত ওই ইউনিটে আরও ৭৫ জন নতুন সদস্য যুক্ত হবেন, যার ফলে মোট সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৩৯৫ জনে দাঁড়াবে। তবে এই পুরো বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিকল্পনাটি কার্যকর করার আগে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিতে হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা জাতীয় পরিষদে পাঠানো হবে। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেওংহে নামের জলদস্যুবিরোধী ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে।

২০০৯ সাল থেকেই চেওংহে ইউনিটটি সোমালিয়ার উপকূলে এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সাধারণত দেশটির পার্লামেন্টের বার্ষিক অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই ইউনিটের কার্যক্রম চলে। এবার এই ইউনিটের কার্যপরিধি ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল দূরে অবস্থিত। মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চেওংহে ইউনিটের সক্ষমতা বাড়াতে শুধু সদস্য নয়, অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামও মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, সমুদ্রের তলদেশে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার সক্ষমতাসম্পন্ন চালকবিহীন সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক অপসারণে পারদর্শী একটি বিশেষজ্ঞ দল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গত কয়েক মাস ধরে সিউল এ অঞ্চলে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করলেও বিষয়টি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছে দেশটি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনোভাবেই যুদ্ধের জন্য সেনা পাঠানো হচ্ছে না। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না যাতে দেশটি কোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেই নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিউল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস।