৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন ইউপি সদস্য আমিনুল

Published: November 2, 2026, 6:06 am

১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করার দীর্ঘ ২৭ বছর পর আবারও পড়াশোনায় ফিরে সাফল্য পেয়েছেন মো. আমিনুল ইসলাম। ৪৭ বছর বয়সে তিনি এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ দশমিক ৪৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমিনুল টানা তিন মেয়াদে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকেই জীবনের ব্যস্ততা ও বয়সকে জয় করে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন। ২৭ বছর আগের কথা। ১৩ বছর বয়সে বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা, ৫৩ বছর বয়সে গৃহবধূর এইচএসসি পাস। এরপর জীবনের ব্যস্ততায় পড়াশোনায় ছেদ পড়ে। কিন্তু মনের ভেতরে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার ইচ্ছাটা বেঁচে ছিল। অবশেষে সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি। চেষ্টা ও অধ্যবসায় থাকলে অনেক দূর যাওয়া যায়।’। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নানা ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁর এই অর্জন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকা বয়স্ক অনেক মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হবে।

আমিনুল ইসলাম মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের মেডিক্যাল মোড় এলাকার বাসিন্দা তোরাব আলীর ছেলে। তিনি পড়াশোনা করেছেন গাজীপুর মহানগরের পুবাইল কারিগরি কলেজের ড্রেস মেকিং ট্রেড থেকে। এবারের ফলাফল প্রকাশের পর দুপুরে স্ত্রীর কাছ থেকে পাসের খবরটি শোনেন তিনি। ২৭ বছর পর পড়াশোনা শুরু করে পরীক্ষায় পাস করার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান, এটি তার জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। ভবিষ্যতে তিনি আইন বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

এই সাফল্যের পেছনে আমিনুলের পরিবারের অবদানও কম নয়। চলতি বছর তাঁর স্ত্রী মোসা. হুসনে আরা ও বড় ছেলে মো. স্বাধীন একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরিবারের তিন সদস্যের এমন সাফল্যে বর্তমানে তাদের বাড়িতে আনন্দের উৎসব চলছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, বয়স বা সাংসারিক ব্যস্ততা যে শিক্ষার পথে কোনো বাধা হতে পারে না, আমিনুলের পরিবার তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই বছরে পরিবারের তিন সদস্যের পরীক্ষায় পাস করার আনন্দে তাঁদের বাড়িতে এখন অন্য রকম উৎসবের আমেজ।

তাঁর এই অর্জনে সহকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামীম মৃধা বলেন, বয়স যে পড়াশোনার বাধা নয়, আমিনুল তা প্রমাণ করেছেন। এছাড়া শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা জানিয়েছেন, ৪৭ বছর বয়সে ধৈর্য ধরে পড়াশোনা করে এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ায় তিনি অন্যের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।