বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

Published: November 2, 2026, 6:43 am

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রশমনে কূটনৈতিক আলোচনার আশাবাদ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুর দিকে অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুই মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

অয়েলপ্রাইস ডটকম ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি কমে ১০৯ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম নেমে আসে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ৫০ সেন্টে। সমঝোতার লক্ষ্যে ইরান ও কাতারের সরকারি কর্মকর্তারা টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। গত ৩০ অক্টোবর মাসের শেষ কার্যদিবসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৮ ডলারে উঠেছিল। অক্টোবর মাসে ব্রেন্টের দাম ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আগামীকাল ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের যে আশঙ্কা ছিল, তা কিছুটা কমে আসায় বাজারে এই স্বস্তি ফিরেছে। তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৭ ডলার। আশঙ্কা ছিল, এই নির্বাচন সামনে রেখে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হবে। নির্বাচন শেষে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরালো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে জানান, গত সপ্তাহে তেলের দামে যে উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে এখন বাজারে কিছুটা সংশোধন ঘটছে। তবে ওয়াটারার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গতকাল রোববার জানিয়েছেন, কাতারের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত থাকাতেই আলোচনা চলছে এবং এতে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত রয়েছে। যদিও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, তথাপি যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনো নিশ্চিত সমঝোতা হয়নি।

এদিকে, বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার পেছনে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধীরগতি বড় ভূমিকা রাখছে। সেই সঙ্গে চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এই প্রবণতা অনুসরণের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। চীনের প্রবৃদ্ধির গতি অনেক দিন ধরেই শ্লথ।

চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ওপেক প্লাস ডিসেম্বর মাসের জন্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেশ গতকাল এই বৈঠকে মিলিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উৎপাদন বিষয়ে জোটটি বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বর ওপেক প্লাসের পরবর্তী বৈঠকে ২০২৭ সালের উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তেলের দাম বাড়বে না কমবে, সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো। সাধারণত দেখা যায়, এই জোট উৎপাদন বাড়ালে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, উৎপাদন কমালে উল্টো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।