বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, অপেক্ষায় ফেডের সিদ্ধান্ত

Published: October 26, 2026, 8:00 am

বিশ্ববাজারে সোমবার স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা, যার প্রভাব পড়েছে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে। বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে স্বর্ণের দামে ৪ শতাংশ দরপতন হয়েছিল, যা গত জুনের পর থেকে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক হ্রাস। এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় বলে জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডার মতে, জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ফেডের আসন্ন মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত এই ইতিবাচক প্রবণতাকে সীমিত করে দিতে পারে। স্বর্ণের বর্তমান গতিপথ মূলত সুদের হারের প্রত্যাশা ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) তথ্য প্রকাশ করা হবে, যা মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে সুদের হার আপাতত অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বরে তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ হ্রাস পায়।

তেলের দামের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার তা কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামলেও ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবে হামলার কারণে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। এদিকে, অন্যান্য ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। রুপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৪ দশমিক ১৯ ডলার হয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৬ দশমিক ২৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।