ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় অস্বস্তিতে রিপাবলিকান নেতারা

Published: October 29, 2026, 6:40 am

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সংকট। তবে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও সমর্থকদের চাঙ্গা করার বদলে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার কৌশল নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন দলের নেতারা। দ্য আটলান্টিকের এক বিশ্লেষণ বলছে, ভোটারদের চাহিদার সাথে ট্রাম্পের বর্তমান বক্তব্যের বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি মূল্যস্ফীতি বা নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন দিতে গিয়ে ট্রাম্পকে এমনটাই করতে দেখা গেছে। সেখানে উপস্থিত র‍্যাপশিল্পী নিকি মিনাজকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে তার শারীরিক গঠন নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ওহাইওর সিনেটর জন হাস্টেডের শরীর নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তার এমন আচরণে উপস্থিত সমর্থকরা আনন্দিত হলেও দলের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি ভালোভাবে দেখছেন না। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ভোটারদের কাছে দলের গুরুত্ব কমে যেতে পারে এবং প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সমাবেশে নিকি মিনাজ ট্রাম্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছেন। ভবিষ্যতে ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করলে তাকে সমর্থন দেয়ার কথাও জানান এই সংগীতশিল্পী। তবে মিনাজের সমর্থনে ভোটারদের মন জয় করার চেয়ে ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য প্রচারণার মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রচারণায় উঠে এসেছে হোয়াইট হাউসের সংস্কার কাজ, কৌতুকশিল্পী বিল মাহেরের সঙ্গে বিরোধ এবং তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফার মতো বিষয়গুলো। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতিই প্রধান ইস্যু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে জয় নিশ্চিত করতে কেবল ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের উজ্জীবিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং দোদুল্যমান ও নিরপেক্ষ ভোটারদের কাছে সরকারের সাফল্য তুলে ধরা জরুরি।

আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ৩৩টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রিপাবলিকানরা যদি এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে কংগ্রেসে ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, নির্বাচনের বাকি সময়ে ট্রাম্প তার প্রচারণার ধরন বদলে অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়কে গুরুত্ব দেবেন কি না।