চট্টগ্রাম বোর্ডে ১৫ বছরে এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হার

Published: October 31, 2026, 6:43 am

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এ বছর বোর্ডটিতে পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সাথে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় ৩ হাজার ২০১ জন কমেছে। এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৬২%, জিপিএ-৫ ৩৫ হাজার।

শনিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলা মিলিয়ে মোট ৯৯ হাজার ৮৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছেন। ছেলেদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং মেয়েদের ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে (নগরসহ) এই হার ৫৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যান্য জেলার মধ্যে কক্সবাজারে ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ, বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এছাড়া বোর্ড অধীন মোট ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। অন্যদিকে, ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। এবারের এইচএসসিতে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেননি।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা অন্যান্যদের চেয়ে ভালো করেছেন, যেখানে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে এই হার ৩৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। যেসব শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের জন্য এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বোর্ডের ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ সালে সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর সময় পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২০ সালে করোনাকালে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেন। ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে এই হার কমছে; ২০২২ সালে ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।