আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত দেড় শতাধিক

Published: November 2, 2026, 10:05 am

সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের পঞ্চম দিনে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আজ সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে দুই শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় ২৩০ টি গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন শেষে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে অনন্ত গ্রুপ ও হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদসহ পুলিশের অনেক সদস্য ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। শিল্প পুলিশের ও কয়েকজন সদস্য আহতের খবর জানা গেছে। এর পর সাভারজুড়ে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে যানচলাচলে অবরোধ সৃষ্টি করে ফেলে।

দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের কাছে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে সাভার ও আশুলিয়া এলাকার প্রায় ২৩০টি কারখানায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। মহাসড়কে তীব্র যানজট নিরসনে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশুলিয়া থানা পুলিশ দুপুর দেড়টার দিকে বাইপাইল এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করেছে, তবে তারা শ্রমিক নাকি বহিরাগত তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।

সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু আরিচা মহাসড়কে সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পতিত সরকারের দোসররা পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে ঢুকে নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে যে, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে নামতে বাধ্য করছে, ফলে সাধারণ শ্রমিকরাও কারখানা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। শান্তিপ্রিয় শ্রমিরাও কারখানা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আজ সোমবার সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সংঘর্ষ তীব্রতর হয়। দিনব্যাপী থেমে থেমে চলা এই সংঘাতের ফলে পুরো সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এখনো মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।