হুমকি দেওয়ার পর নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকল চীন। কিলিয়ান এমবাপ্পের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের খেলা সম্প্রচার করা থেকে বিরত থাকল দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি। রোববার রাতে লা লিগায় রেসিং সান্তান্দার ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার ম্যাচটি চীনের কোনো চ্যানেলে দেখানো হয়নি। এমনকি দেশটির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মিগুতেও ম্যাচটি প্রচার করা থেকে বিরত ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এএফপির অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা এমবাপ্পের একটি পুরনো সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে এমবাপ্পে নিজের দেখা মজার এক ইন্টারনেট মিমের কথা উল্লেখ করেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড জানান, সেই মিমে তাঁর নিজের মুখ বসানো হয়েছিল চীনের এক সাবেক শাসকের ছবিতে। নাম উল্লেখ না করলেও মিমটি ছিল চীনের প্রয়াত নেতা মাও সে-তুংকে নিয়ে। এই মন্তব্যটি চীনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এমবাপ্পের এমন মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানায় চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)। সিসিটিভির তত্ত্বাবধায়ক সংস্থাটি সোমবার লা লিগার সম্প্রচার সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হলে এমবাপ্পে, রিয়াল মাদ্রিদ এবং লা লিগাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। এরই মধ্যে তিন পক্ষই দুঃখ প্রকাশ করেছে। এমবাপ্পে নিজের মন্তব্যকে ‘বিবেচনাহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এমবাপ্পের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে দুঃখ প্রকাশের পরও সম্প্রচার চালু করার বিষয়ে চীন কোনো নমনীয়তা দেখায়নি।
রোববার অনুষ্ঠিত রিয়াল মাদ্রিদ ও রেসিংয়ের ম্যাচটি সিসিটিভির ক্রীড়া চ্যানেলে দেখানো হয়নি। শুধু ওই ম্যাচই নয়, লা লিগার একাদশ রাউন্ডের অন্যান্য ম্যাচও চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়নি। এদিকে, ডিজিটাল সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান মিগু শনিবার বার্সেলোনা ও আলাভেসের ম্যাচসহ লা লিগার বেশিরভাগ খেলা দেখালেও, রোববার রিয়ালের ম্যাচের ক্ষেত্রে তারা একই পথ অনুসরণ করেছে। মিগুর সম্প্রচার সূচিতে রিয়ালের ম্যাচটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
ইউরোপীয় ফুটবলের জন্য চীনের বিশাল বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির রাষ্ট্রীয় চ্যানেলে প্রিমিয়ার লিগসহ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় লিগগুলোর খেলা নিয়মিত দেখানো হয়। লা লিগার সম্প্রচার বন্ধের ফলে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমবাপ্পের মন্তব্যের পর ইতোমধ্যে চীনের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ফরাসি এই তারকার সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।








