অপহরণের ৯ দিন পর উদ্ধার তরুণ, মুক্তিপণ দিয়েও ফিরলেন অসুস্থ অবস্থায়

Published: November 3, 2026, 11:46 am

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে মাস্ক পরা এক ব্যক্তির খপ্পরে পড়ে অপহৃত হন ২৫ বছর বয়সী রিদয়ন আনসারী। গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কালিয়াকৈরের সফিপুর থেকে মগবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার পর আবদুল্লাহপুর থেকে ‘প্রভাতী বনশ্রী’ বাসে ওঠেন তিনি। উত্তরার আজমপুরে বাসটি পৌঁছানোর পর পাশের সিটে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি বসলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর দীর্ঘ নয় দিন তাঁর কোনো খোঁজ ছিল না। অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারী চক্র। পরিবার ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কালিয়াকৈরের সফিপুরে বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন রিদয়ন। বাসটি উত্তরার আজমপুর এলাকায় পৌঁছালে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি তাঁর পাশে এসে বসেন। টানা নয় দিন বন্দী থাকায় রিদয়ন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, রিদয়ন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার প্রয়াত আবদুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে এবং রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে পরিবারের সঙ্গে থাকেন। তিনি বিবিএ পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অপহৃত হওয়ার পরদিন ২৫ অক্টোবর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাঁর বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীকে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দিশেহারা পরিবার অপহরণকারীদের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৪০ হাজার টাকা পাঠালেও মুক্তি মেলেনি। টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারীরা উল্টো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরদিন ২৫ অক্টোবর একটি অপরিচিত নম্বর থেকে রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীকে কল করে ভাইকে জীবিত ফেরত দিতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে অপহরণকারীরা তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। কিন্তু টাকা পেয়েও রিদয়নকে ছাড়েনি চক্রটি, বরং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

ঘটনাটি জানার পর রিদয়নের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ কালিয়াকৈর থানায় একটি জিডি করেন। পাশাপাশি খিলগাঁও ক্যাম্পে এসআরবি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। গত রোববার বড় ভাই শাহরিয়ার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় অপহরণ মামলা করেন। এর আগে গতকাল সোমবার রিদয়নকে উদ্ধারের দাবিতে ঘিওরের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।

উদ্ধার হওয়ার পর রিদয়নকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার। বড় ভাইয়ের অভিযোগ, টানা নয় দিন তাকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে খাবার দেওয়া হতো দিনে মাত্র একবার। সারাক্ষণ হাত ও চোখ বেঁধে রাখার পাশাপাশি তার মুঠোফোন, ই-মেইল এবং সব ধরনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নিয়ে নিয়েছে চক্রটি। সুস্থ হয়ে ফেরার পর সাভারের নবীনগর এলাকায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে স্বজনদের সহায়তায় তিনি পরিবারের কাছে পৌঁছান। কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক জানান, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপহরণ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।