যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাট, চাপে ট্রাম্প

Published: November 4, 2026, 5:06 am

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। চার বছর পর আবারো বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে যাচ্ছে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ। সিবিএস নিউজের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে অন্তত ২১৮টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ঠিক এই সংখ্যক আসনেই জয়ের প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটারদের মনোভাব ও ট্রাম্পের ওপর প্রভাব

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রয়টার্সের বুথফেরত জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্পের প্রতি নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশের উপায় হিসেবে এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটারই ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট। এছাড়া ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার দুটি কক্ষের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫টি আসন রয়েছে এবং সিনেটে আসন সংখ্যা ১০০। নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ২১৯টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি, দুটি আসন ছিল শূন্য। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি আসন এবং ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র সদস্যদের আসন ছিল ৪৭টি। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয় নিশ্চিত হলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ এখনো অনিশ্চিত। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসনে বাড়তি জয় পেতে হবে। বর্তমানে নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে দুটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে এবং সাউথ ক্যারোলাইনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজ জয় পেয়েছেন। আলাস্কা, আইওয়া, মিশিগান, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ

  • প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ফলে আইন প্রণয়ন ও বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্বে ডেমোক্র্যাটরা শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।
  • ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করার ক্ষমতা ও সুযোগ বৃদ্ধি পাবে ডেমোক্র্যাটদের।
  • সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেলে বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা বড় প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
  • এই ফলাফল ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনামলে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফল ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতি ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি যেমন তার বর্তমান মেয়াদের শেষ সময়ের প্রশাসনিক কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে, তেমনি ডেমোক্র্যাটদের জন্য সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নতুন পথ প্রশস্ত করবে। তবে কংগ্রেসের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে তা এখন সিনেটের বাকি আসনগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবারের নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রেখেছে।