বৈশ্বিক সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কতার মধ্যেও ওয়েবসাইটটি হ্যাকারদের কবলে পড়েছে। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ব্যাংকটির ওয়েবসাইট সচল করা সম্ভব হয়নি। তবে জনতা ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দিন শেষ হওয়ার আগেই এটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ব্যাংকটির ওয়েবসাইটের অন্তত দুটি অংশে স্প্যাম বা ক্ষতিকর আক্রমণের চিহ্ন রয়েছে। আইটি বিভাগের কর্মীরা বর্তমানে সেই ত্রুটিগুলো শনাক্ত করে সমাধানের কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই আক্রমণের ধরন বিশ্লেষণ ও তা নিরাময়ে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এই সমস্যার সমাধান হলে ওয়েবসাইটটি দ্রুত ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘এনিসা’ ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা জারি করেছিল। গত ২১ অক্টোবর প্রকাশিত যৌথ সেই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিতে থাকা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
পাঁচ দিনের ছুটি শেষে রোববার ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট চালু করা সম্ভব হলেও জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা করা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের ওয়েবসাইট আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সচল ও স্বাভাবিক ছিল।

