ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বোলসোনারোকে হারিয়ে আবার জয়ী লুলা

Published: October 26, 2026, 3:07 am

ব্রাজিলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা।

রোববারের দ্বিতীয় ধাপের ভোটে নিজের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সেনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোকে পরাজিত করে তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য বিজয় নিশ্চিত করেছেন। দেশটির অফিসিয়াল নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফলে লুলা ৫১ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বোলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ শতাংশের কিছু বেশি ভোট।

ব্রাসিলিয়ার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৩ মিনিটে ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টরাল কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে লুলার জয়ের ঘোষণা দেয়। যখন এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়, তখন ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা শেষ হয়েছিল এবং লুলা ৫১ শতাংশ ও বোলসোনারো ৪৮.৬৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার সর্ববৃহৎ দেশটির ক্ষমতায় টিকে রইলেন লুলা। এর ফলে ডানপন্থি রাজনৈতিক জোটের প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা বড় ধরনের হোঁচট খেল। ‘গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক জয়’: উল্লাসে ভাসছে লুলার শিবির। তবে সব হিসাব-নিকাশ ও তিক্ত লড়াই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ডানপন্থি বোলসোনারোকে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন বামপন্থি নেতা লুলা। ফলে এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করার যে স্বপ্ন ডানপন্থিরা দেখছিল, তা এবার বড় ধাক্কা খেল।

নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে লুলার বিজয় ঘোষণা করলেও, এখন পর্যন্ত পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বোলসোনারো বা তার শিবিরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পরাজয় স্বীকারের বার্তা আসেনি। নির্বাচনের সময় ভোটগ্রহণের সময়সীমা দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া সমালোচনা করেছিলেন বোলসোনারো। এরপর থেকেই তার প্রচারণা সমন্বয়ক রজেরিও মারিনহো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীরব রয়েছেন।

লুলার এই জয়কে ব্রাজিলের আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ প্রথম ধাপের ভোটে পিছিয়ে পড়েও সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জেতার মতো ঘটনা ব্রাজিলের রাজনীতিতে আগে কখনো ঘটেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফার্নান্দো ব্রাঙ্কোলি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, প্রথম ধাপে পিছিয়ে পড়ার পর এভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসার ঘটনাটি ব্রাজিলের প্রেক্ষাপটে একেবারেই অভূতপূর্ব।

ব্রাঙ্কোলির মতে, এই নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। লুলা সব ধরনের জনমত ও অনুমান ভুল প্রমাণ করেছেন, কারণ তার নিজস্ব শিবিরের অনেকেই ভেবেছিলেন ফ্লাভিও বোলসোনারোই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন। তবে লুলা এই রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

ভবিষ্যৎ সরকারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্রাঙ্কোলি সতর্ক করে বলেছেন, লুলার সরকার তাদের সব পরিকল্পনা হয়তো একসাথে বাস্তবায়ন করতে পারবে না। তাকে বিভিন্ন ছোট ছোট বিষয়ে জয়ী হতে বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে আপস ও দরকষাকষি করে এগোতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের নির্বাচনে ফ্লাভিও বোলসোনারোর বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো লুলার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। সে সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো নিজের পরাজয় স্বীকার করেননি, যা ব্রাজিলের রাজনীতিতে এক আলোচিত বিষয় হয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোটে ডানপন্থিদের অভূতপূর্ব উত্থান ঘটলেও, চূড়ান্ত লড়াইয়ে লুলা তার বামপন্থি ভাবাদর্শের শক্ত ভিত্তি বজায় রাখতে সফল হয়েছেন।