গুরুদাসপুরে জানাজা শেষে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট

Published: October 28, 2026, 5:22 am

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের জানাজা পরবর্তী সময়ে একটি শপিং মলে ভয়াবহ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারের রাশ মেগা মলে এ ঘটনা ঘটে। শপিং মলটির মালিক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসাইন। অভিযোগ উঠেছে, শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নাটোর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানের সঙ্গে মালিকের ঘনিষ্ঠতার কারণেই এই প্রতিষ্ঠানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর পর নাটোরে বিএনপির এমপির ছেলে পুলিশ হেফাজতে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ ১২ দিন রাজশাহী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে নূরুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাঁকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। নাটোরে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, ১২ দিনেও শনাক্ত হয়নি হামলাকারী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঢাকায় জানাজা শেষে শাকিলের মরদেহ গুরুদাসপুরে আনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর মাইকিং করে উপস্থিত লোকজনকে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে রাশ মেগা মলে অতর্কিত হামলা চালায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, মিছিলে অংশ নেওয়া লোকজনই শপিং মলে হামলা করেন।

হামলাকারীরা দোকানের শাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং প্রায় ৪০ মিনিট ধরে কাপড়, প্রসাধনী ও জুতা-স্যান্ডেলের দোকানে ব্যাপক লুটপাট চালায়। অনেককে রিকশা বা ভ্যানে করে লুন্ঠিত মালামাল নিয়ে যেতে দেখা গেছে। শপিং মলের মালিক রাসেল হোসাইনের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একটি মহল মলটি বন্ধ করার জন্য শাকিল হত্যার ইস্যুকে ব্যবহার করে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। তার হিসাবে এই ঘটনায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চলার পর পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। দলীয়ভাবে পরিচিতি না থাকলেও কিছু লোক মালামাল লুটের জন্যই হামলায় অংশ নেন। তাঁরা লুট করা মালামাল মাথায় করে, রিকশা-ভ্যানে করে বিনা বাধায় নিয়ে যেতে থাকেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার জানিয়েছেন, কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ মব সৃষ্টি করে প্রবাসীর সম্পত্তিতে আঘাত হেনেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।