রাজশাহীর তেঁতুলতলা বাজার ও এক শতবর্ষী তেঁতুলগাছের গল্প

Published: October 30, 2026, 3:02 am

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারটি মূলত একটি বিশাল তেঁতুলগাছকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বাজারের দোকানপাটের ফাঁক গলে ছড়িয়ে থাকা এই গাছটির ডালপালা কোনোটি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়েছে, আবার কোনোটি ছুঁয়ে আছে ছাদের ওপর। স্থানীয় মানুষের ধারণা, গাছটির বয়স অন্তত ১০০ বছরের বেশি, যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শোনা লোককথা। এই গাছটির নামানুসারেই এলাকাটি তেঁতুলতলা বাজার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চা-দোকানি মো. মজদুলের (৫০) দোকানের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে গাছের একটি ডাল। ভাটার ধোঁয়ায় গাছের পাতা ঝরে পড়ে।

বাজারে আসা প্রবীণ বাসিন্দা ৯০ বছর বয়সী মো. ওয়াজিদ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই গাছটিকে একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছেন। প্রায় চার দশক ধরে এই বাজারের অস্তিত্ব থাকলেও একসময় এখানে বসতি ও দোকানের সংখ্যা ছিল খুবই কম। সময়ের পরিক্রমায় গাছটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও বসতি। বর্তমানে বাজারের দোকানদার ও স্থানীয় মানুষ গাছটির গোড়া বাঁধানোসহ শুকনো ডালপালা অপসারণের মতো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজগুলো নিজ দায়িত্বেই করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজিদের বয়স প্রায় ৯০ বছর। তিনি বলেন, রাজশাহীতে কোথাও তেঁতুলতলা বাজারের কথা বললে মানুষ এই জায়গা চিনতে পারে।

গাছটির সঙ্গে স্থানীয়দের এক আবেগী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী বাবু মণ্ডলের ভাষ্যমতে, এই তেঁতুলগাছের ফল বিক্রির কোনো চল নেই। যার প্রয়োজন, তিনি গাছ থেকে তেঁতুল পেড়ে নিতে পারেন। বাজারের চা বিক্রেতা মো. মজদুল জানান, প্রায় ১৩-১৪ বছর ধরে তিনি এখানে দোকান করছেন এবং দোকান তৈরির অনেক আগে থেকেই গাছটির ডাল সেখানে বিদ্যমান ছিল। রাতের বেলা এই গাছের ডালে বকসহ নানা ধরনের পাখি আশ্রয় নেয়, যা এক স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করে। গাছের গোড়া বাঁধানো হয়েছে ইট দিয়ে। ছোটবেলায় গাছে উঠে তেঁতুল পাড়ার স্মৃতিও মনে আছে তাঁর। গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখা, শুকনো ডাল সরিয়ে ফেলাসহ গাছটির যত্ন স্থানীয় লোকজনই নেন।

তবে বর্তমানে গাছটির ফলন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে স্থানীয়রা আশপাশের ইটভাটার ধোঁয়াকে দায়ী করছেন। চা বিক্রেতা মজদুল জানান, এলাকার আশেপাশে বর্তমানে ২৪টি ইটভাটা রয়েছে। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে কেবল এই তেঁতুলগাছই নয়, আশেপাশের আম ও কাঁঠালগাছসহ অন্যান্য গাছেরও ফলন কমে গেছে। তবুও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই প্রাচীন গাছটি দেখতে আসেন এবং গাছটি যেন দীর্ঘকাল এভাবেই ছায়া দিয়ে বেঁচে থাকে, সেটিই সবার প্রত্যাশা। তেঁতুলগাছটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে এই বাজারে আসেন।