মিরপুরের নতুন বিনোদনকেন্দ্র ‘ওয়াওজা’: অপটিক্যাল ইলুশনের এক জাদুকরী জগৎ

Published: October 31, 2026, 8:46 am

রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে চালু হয়েছে দেশের প্রথম প্রিমিয়াম ইলুশন ও ইমারসিভ এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম ‘ওয়াওজা’। হাজী কুজরাত আলী মোল্লা মার্কেটের চতুর্থ তলায় অবস্থিত এই বিনোদনকেন্দ্রটি অপটিক্যাল ইলুশন এবং বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি সেগমেন্টের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে, যা স্বল্প সময়েই নগরবাসীর মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমন অসম্ভবকে সম্ভব করেছে মিরপুর ১২ নম্বরে অবস্থিত সদ্য চালু হওয়া চিত্তবিনোদনকেন্দ্র ওয়াওজা। অপটিক্যাল ইলুশনকে কাজে লাগিয়ে ছোট-বড় সব বয়সীর জন্য সাজানো হয়েছে এই বিনোদনকেন্দ্র। উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মাথায় ইতিমধ্যে ওয়াওজা রাজধানীবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বেশ কয়েকজন তরুণের সম্মিলিত উদ্যোগ এই ওয়াওজা। ঘোরাঘুরি কিংবা ব্যবসার কাজে কোনো দেশ ভ্রমণে গেলে প্রথমেই যে কেউ সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চান। মা–বাবা, ভাই-বোন কিংবা দম্পতি—ছবির জন্য সবার পছন্দ এই ঘর। সত্যি বলতে এখানেও ভিন্নতা এনেছে ওয়াওজা।

তরুণ উদ্যোক্তাদের এক যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে থ্রিডি আর্ট গ্যালারি, পারস্পেকটিভ আর্ট এবং গেমিং জোনের মতো নানা আকর্ষণ রাখা হয়েছে। ওয়াওজার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হৃদয় চৌধুরী জানান, দুই-তিন বছরের শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষ এখানে এসে আনন্দ নিতে পারবে। ‘এক্সপেরিয়েন্স দ্য আনরিয়েল’ স্লোগান নিয়ে সাজানো এই মিউজিয়ামটি প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

ওয়াওজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ‘ভর্টেক্স টানেল’।

এটি একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গ, যার চারপাশ ঘিরে থাকে লাল-নীল আলোর খেলা।

সুড়ঙ্গে পা রাখলেই পায়ের নিচের মাটি সরে যাওয়ার মতো এক অনুভূতি তৈরি হয়, যা দর্শকদের অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। ধরুন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু আপনার পায়ের নিচের মাটি নিজ থেকেই সরে যাচ্ছে, মনে হতে পারে এ কী করে সম্ভব। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলেন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে হুবহু আরও কয়েকখানা আপনি। মনে হতেই পারে আপনি হয়তো স্বপ্ন দেখছেন, ঘুমটা বুঝি এখনই ভাঙল। শুধু খুঁজে পাওয়া যাবে আপনার মুখখানা। শুধু তাই নয়, অন্যদিকে তাকালে আয়নার জাদুতে আপনি পরিণত হবেন কয়েক খানায়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে জীবন্ত এক শহর, আপনার সঙ্গেই যা হাঁটছে। এই মিরর মেইজে ঢুকলে শত শত আপনার মাঝে তো হারাবেনই, সেই সঙ্গে দেখতে পাবেন বিরাট এক সূর্যমুখীর বাগান। এক কথায় আউটডোর থেকে শুরু করে ইনডোর—এক ছাদের নিচেই পাচ্ছেন সব রকম গেমসের অনুভূতি।

এছাড়া ‘শ্যাডো ড্যান্স’ নামক সেগমেন্টটিতে দর্শনার্থীরা মাইকেল জ্যাকসন বা হাল্কের মতো চরিত্র বেছে নিতে পারেন। এখানে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে আপনার প্রতিটি অঙ্গভঙ্গিকে হুবহু অনুকরণ করবে নির্বাচিত চরিত্রটি, যা বড় স্ক্রিনে দেখা যায়। দেওয়া হবে ৩০ সেকেন্ড সময়।

চাঁদে হাঁটার অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে রয়েছে ‘টিল্ট রুম’। এই বাঁকানো ঘরে চাঁদের ভূমিতে হাঁটার মতো অনুভূতি পাওয়া যায় এবং অভিজ্ঞতা আরও বাস্তব করতে এখানে শীঘ্রই নভোচারীদের পোশাক যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ‘অ্যামস রুম’-এর দৃষ্টিভ্রমের খেলায় একই ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে একজনকে বিশাল বড় এবং অন্যজনকে ছোট মনে হবে। আবার ‘ক্যামোফ্লাজ রুম’-এ দেয়ালের সাথে মিশে গিয়ে নিজেকে অদৃশ্য করে ফেলার মতো জাদুকরী অভিজ্ঞতাও এখানে পাওয়া যায়। এই ভেবে যখন দু কদম যাবেন, ঠিক তখনই নিজেকে আবিষ্কার করলেন চাঁদের মাটিতে।

থ্রিডি ও পারস্পেকটিভ ওয়াল আর্টের মাধ্যমে তৈরি রঙিন শহরের দৃশ্যগুলোর সাথে ছবি তোলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ওয়াওজার ‘মিরর মেইজ’ সাধারণ আয়নার গোলকধাঁধা থেকে আলাদা, কারণ এখানে শত শত প্রতিচ্ছবির মাঝে দেখা মিলবে এক বিশাল সূর্যমুখী বাগানের। গেমসের মধ্যে লাল-নীল ব্লকের খেলা ও নাটাই দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর ভিডিও গেমসহ নানা ইন্টারঅ্যাকটিভ সুবিধা এখানে যুক্ত করা হয়েছে। এই থ্রিডি, পারস্পেকটিভ ওয়াল আর্টসের মধ্যে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ধাঁধায় ফেলবে রঙিন এক শহরের দৃশ্য।

ওয়াওজায় প্রবেশের জন্য জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা, সেই সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। টিকিট ব্যবস্থাটি মূলত স্লটভিত্তিক, যেখানে প্রতি পাসের জন্য এক ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকে। এই সময়ের মধ্যে দর্শনার্থীরা সব ধরনের অ্যাক্টিভিটি ও গেমস উপভোগ করতে পারবেন। সিঙ্গেল পাসের পাশাপাশি বিভিন্ন প্যাকেজের ব্যবস্থাও রেখেছে কর্তৃপক্ষ।