নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় নতুন করে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ‘তারা অস্ত্র নিয়ে বসে আছে, আমি গেলে গুলি করবে’—আগেই বলেছিলেন সাংবাদিক আলিফ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দুর্গাপুর পৌরসভার মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং একই উপজেলার তেরিবাজার এলাকার মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন তাজুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী এবং তাঁরা সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া হত্যা মামলার তদন্তে ইমরানের নাম উঠে আসে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সুনামগঞ্জ থেকে নেত্রকোনায় নিয়ে আসার পর আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ইমরান ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর সাংবাদিক আলিফের ওপর যে হামলা হয়েছিল, সেই মামলারও প্রধান আসামি ছিলেন ইমরান। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।
এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোট চারজনকে আইনি আওতায় আনা হলো। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁদের দুজনকেই রিমান্ডে পাঠায়।
এদিকে সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার ও অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, নেত্রকোনা জেলা শাখার আয়োজনে এতে স্থানীয় সাংবাদিকেরা অংশ নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। ‘ভাইকে ফিরে পাব না, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’, মানববন্ধনে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামানের ভাই।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজার-সংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। ঘটনার পরদিন নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত আলিফ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজে সীমান্ত এলাকার অপরাধ ও চোরাচালান নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। সীমান্তে অপরাধ খুঁজতে গিয়েই নিশানা হন আলিফ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন।








