আম্পায়ারস কল পক্ষে না আসায় কিছুটা হতাশ অধিনায়ক নাজমুল

Published: October 31, 2026, 11:56 am

মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত টেস্টে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের একাধিক রিভিউ ও সিদ্ধান্ত আম্পায়ারস কলের মুখে পড়ে। এক সাংবাদিক ম্যাচে চারটি আম্পায়ারস কল বাংলাদেশের বিপক্ষে যাওয়ার কথা বললে সংবাদ সম্মেলনে তা শুধরে দেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। তিনি জানান, আম্পায়ারস কল বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে চারটি নয়, আসলে পাঁচটি ঘটনায়।

ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের প্রথম ওভারেই দুবার এলবিডব্লুর আবেদন থেকে বেঁচে যান ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা। আম্পায়ারস কল পক্ষে থাকায় সিদ্ধান্ত থেকে যায় তাদের অনুকূলেই। পরবর্তীতে আরও তিনবার একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় আম্পায়ারস কল বিপক্ষে গেলে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা আউট হয়ে যেতেন। বিষয়টি নিয়ে নাজমুল বলেন, প্রতিপক্ষকে যখন ১৭০ রানের টার্গেট দেওয়া হয়, তখন পাঁচটি আম্পায়ারস কলের মধ্যে অন্তত তিনটি পক্ষে থাকা প্রয়োজন ছিল। তবে এটিকে ভাগ্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, আম্পায়ারদের দোষ দেওয়া যাবে না এবং যা ঘটেছে তা ভাগ্যের লিখন হিসেবেই মেনে নিতে হবে। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রশ্নের জবাবে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল বলেছেন, ‘আপনি যখন প্রতিপক্ষকে ১৭০ রানের লক্ষ্য দেবেন, তখন আম্পায়ারস কল পাঁচটার মধ্যে তিনটা আপনার পক্ষে দরকার হবে। আম্পায়ারকে আপনি দোষও দিতে পারবেন না। এটা ধরে নিতে হবে যে আমাদের ভাগ্যে ছিল না।’।

বাজে আম্পায়ারিং বা ভাগ্যকে হারের অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে নিজের হতাশা লুকিয়ে না রেখে তিনি মন্তব্য করেন, এমন ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা খারাপ লাগে ও হতাশার সৃষ্টি হয়। প্রকৃতপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের ব্যর্থতাই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ৮ নম্বরে নামা নাঈম হাসানের ফিফটির সৌজন্যে বাংলাদেশ ১৪২ রান তুলতে সমর্থ হয়।

উইকেটের কন্ডিশন বিবেচনায় ১৭০ রানের সংগ্রহ রক্ষা করা সম্ভব ছিল বলে বিশ্বাস করতেন নাজমুল। তিনি স্বীকার করেন, প্রতিপক্ষ ভালো খেলেছে, তবে তাদের বোলাররা এই উইকেটে আরও কিছুটা নিখুঁত বোলিং করতে পারতেন। ম্যাচ হারের আসল কারণ হিসেবে নাজমুল প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ধসকে দায়ী করেন। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ২১৩ রান তুলে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। নাজমুল জানান, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২১৩ রান তুলে অলআউট হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া এবং প্রতিপক্ষ ২৭৩ রান করায় তারা শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যান। পরবর্তীতে ব্যাটিং কঠিন হবে জানা সত্ত্বেও প্রথম ইনিংসের ভুলই মূলত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে। অবশ্যই ওদেরকে একটু কৃতিত্ব দিতে হবে কিন্তু আমি বলব যে আমরা এই উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম। এখান থেকে প্রথম ইনিংসে বড় কোনো সংগ্রহ গড়তে পারলে কাজটা সহজ হয়ে যেত পরের ইনিংসে। তাই এত দূর না ভেবে বলব, ভুলটা আমরা প্রথম ইনিংসেই করেছি।’।