পম্পেইয়ের ধ্বংসস্তূপে মিলল প্রাচীন রোমানদের ব্যক্তিগত সামগ্রীর আলমারি

Published: November 1, 2026, 8:19 am

উনআশি খ্রিষ্টাব্দে মাউন্ট ভিসুভিয়াসের বিধ্বংসী অগ্ন্যুৎপাতে প্রাচীন রোমান শহর পম্পেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকদের অনুসন্ধানে শহরটির বিভিন্ন স্তরে নানা নিদর্শন উঠে আসলেও সম্প্রতি গবেষকেরা একটি বাড়ির অভ্যন্তরে সিল করা কাঠের আলমারির সন্ধান পেয়েছেন। ভিয়া ডেল’আবোন্দানজা সড়কের পাশে অবস্থিত বাড়িটির শিলালিপি বিশ্লেষণ করে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ধারণা করছেন, এটি কর্নেলিয়াস ম্যাক্সিমাস নামের কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। ১৯১২ সালে বাড়িটির সামনের অংশ খনন করা হলেও ভেতরের কক্ষগুলো এত দিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। প্রায় দুই হাজার বছর আগে, ৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মাউন্ট ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল প্রাচীন রোমান শহর পম্পেই।

আলমারিটি উন্মোচনের পর ভেতর থেকে প্রাচীন রোমানদের দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রসাধন সামগ্রী, কাচের তৈরি ছোট সুগন্ধির শিশি, চিমটা, ধূপদানি এবং ব্রোঞ্জের তৈরি একটি লন্ঠন। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে একটি শিশুর গলার হার। ‘ক্রেপুন্ডিয়া’ নামে পরিচিত এই হারে প্রাচীন মিসরীয় দেবতা বেস ও রোমান দেবতা মার্কারিসহ বিভিন্ন দেবতার প্রতিকৃতি খোদাই করা ২০টির বেশি ছোট লকেট যুক্ত ছিল। লকেটগুলো থেকে হাঁটার সময় ঝুনঝুন শব্দ হতো, যা দিয়ে অভিভাবকেরা সন্তানের অবস্থান শনাক্ত করতে পারতেন। এছাড়া এটি শিশুর পরিচয় বহনকারী চিহ্ন হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

আলমারির ভেতর আরও পাওয়া গেছে ৩৮টি ব্রোঞ্জের মুদ্রা, রান্নার পাত্র এবং সিসার বাটখারা সম্বলিত একটি কাঠের বাক্স। এসব থেকে গবেষকদের অনুমান, বাড়ির বাসিন্দা হয়তো ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অগ্ন্যুৎপাতের সময় বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে এত দ্রুত পালিয়েছিলেন যে, টাকাপয়সা বা মূল্যবান ব্যক্তিগত সামগ্রী গুছিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগই তাদের ছিল না। এমনকি বাড়ির ভাঁড়ার ঘরে থাকা মাটির পাত্রের ভেতরে দুটি ইঁদুরের কঙ্কালও সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা সেই সময়ের ঘটনার আকস্মিকতার প্রমাণ দেয়।