ইউক্রেনকে ২১০ কোটি ডলারে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Published: October 31, 2026, 3:42 am

চলমান রুশ হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার এই প্রস্তাবের সম্মতি নিশ্চিত করেছে। এসব আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১০ কোটি মার্কিন ডলার। ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বড় পদক্ষেপ। ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সে ক্ষেত্রে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে মজুত থাকা প্যাট্রিয়টের কিছু অংশ আগেই ইউক্রেনকে দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।

কিয়েভের জন্য এই সমরাস্ত্র চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের দ্রুত সরবরাহ পাওয়ার সুযোগ সীমিত। চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, চাহিদাকৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো তৈরিই করা হয়নি। ফলে ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকের বছরগুলোর আগে এগুলো ইউক্রেনের হাতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশ কম। সরবরাহ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে, যাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিজস্ব মজুত থেকে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আগে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে নতুন উৎপাদিত অস্ত্র দিয়ে তা পূরণ করে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকের কয়েকটা বছর পার না হওয়া পর্যন্ত এসব অস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনকে আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে মিত্রদেশগুলোর অনুদানে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, সেবা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে ওই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোয় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ তীব্র হয়েছে। এ ধরনের দ্রুগতির হামলা রুখতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকরী বলে বিবেচিত। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি জানান, জরুরি এই সমরাস্ত্রের অনুমোদনের জন্য তাদের প্রায় এক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করেছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ে ইউক্রেনকে সরাসরি অর্থায়ন করছে মিত্রদেশগুলো। কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের আর্থিক সহায়তায় ‘ইউএস জাম্পস্টার্ট’ কর্মসূচির আওতায় এই কেনাকাটা সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’ থেকেও প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান করা হচ্ছে। পেন্টাগন জানায়, যুদ্ধের শুরু থেকেই মিত্র দেশগুলোর যৌথ তহবিলের সাহায্যে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে তারা। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’ নামের ঋণ প্রকল্প থেকে পাওয়া অর্থও ব্যবহার করা হবে।

ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা গেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল বাণিজ্যের চুক্তি ঘোষণা করা এবং ইউক্রেন কর্তৃক রুশ তেল শোধনাগারে হামলা অব্যাহত রাখার সমালোচনা করায় পরিস্থিতি জটিল রূপ নেয়। ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের অনাগ্রহের কারণেই এসব হামলা বন্ধ করা যাচ্ছে না। ইউক্রেন দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছে, হামলা ঠেকাতে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তাদের জরুরিভিত্তিতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র দরকার।

সার্বিক পরিস্থিতিতে ইউক্রেন সামরিকভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আমেরিকার কাছ থেকে দ্রুততম সময়ে এসব প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র হস্তান্তরের জন্য কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।