পাঠ্য বই নিয়ে বিতর্কে এনসিটিবির নয় কর্মকর্তা বদলি

Published: October 27, 2026, 2:25 am

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি। কিন্তু পাঠ্য বইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের বিতর্ক এবং তা সংশোধনের উদ্যোগের কারণে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিতর্কের মুখে থাকা প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশোধনের পর সেগুলো আবারও বিতরণ করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রায় ১৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি পাঠ্য বই ছাপাতে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই সংশোধন কার্যক্রম শেষ করা এনসিটিবি’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিতর্কের পর এনসিটিবি প্রথমে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় প্রতীক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়।

বিতর্কের মূলে রয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার। ২০২৫ সালের বইয়ে এই প্রতীক থাকলেও ২০২৬ সালে তা সরিয়ে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি দেয়া হয়েছিল। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে পুনরায় দাঁড়িপাল্লা ফিরে আসে। যেহেতু দাঁড়িপাল্লা একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক, তাই এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান জানান, বইয়ের জ্ঞানের পিরামিড অংশে কোনো আইকন বা প্রতীক না রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যেই সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর— উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা— দেখানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।

বইয়ে থাকা প্রতীক ও ছবি নিয়ে বিতর্ক কেবল দাঁড়িপাল্লায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ে ‘নৌকা’র ছবি ব্যবহারের বিষয়েও আপত্তি উঠেছে। পাওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বিতর্কিত এই ছবিগুলো ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বইয়েও ছিল বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার জেরে সোমবার এনসিটিবির নয় কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করতে হবে। এর আগে রোববার আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়। এই ঘটনায় সোমবার এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। আগের দিন বদলি করা হয়েছিল আরেক কর্মকর্তাকে।

তবে প্রাথমিক স্তরের বইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহারের নেপথ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, তা নিয়ে এনসিটিবির ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, বদলি বিষয়টি সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। এই প্রক্রিয়ায় তার নিজস্ব কোনো ভূমিকা নেই এবং কেন কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।