লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্সে মিলল ৮ লাখ টাকার বেশি

Published: October 27, 2026, 7:43 am

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত ফকির লালন শাহর আখড়াবাড়ির দানবাক্সগুলো ১৫ দিনের ব্যবধানে আবারও খোলা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি দানবাক্স খুলে আট লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। এর আগে ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলা হয়েছিল, যেখানে ছয় লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। গতকাল সোমবার দুপুরে দুটি দানবাক্স থেকে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথমবার প্রকাশ্যে খোলা হলো লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স, সাড়ে ৩ ঘণ্টা চলে গণনা। সেদিন পাওয়া গিয়েছিল ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সিলগালা ভেঙে এই অর্থ গণনা করা হয়। লালন একাডেমি ভবনের চারতলায় টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই গণনার কাজে জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমির অন্তত ১৫ জন কর্মচারী সহায়তা করেন। গতবারের মতোই এবারও উদ্ধারকৃত পুরো টাকা লালন একাডেমির নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলাকালে কুমারখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। গতকালের টাকাও একই হিসাবে জমা করা হয়েছে।

কুমারখালীর ইউএনও মো. রাইসুল ইসলাম জানিয়েছেন, লালন সাঁইয়ের উৎসবগুলোকে ঘিরে বছরে চারবার নিয়মিত দানবাক্স খোলা হয়। এবার ১৩৬তম তিরোধান দিবসের সাত দিন পর এই বাক্সগুলো খোলা হলো। উল্লেখ্য, গত বছর ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে চার লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং দিবসের তিন দিন পর আরও নয় লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। গত বছর ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা। তিরোধান দিবসের তিন দিন পর আবার খুলে পাওয়া যায় ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা।

আখড়াবাড়ির ফকির-সাধু ও ভক্তরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা দানের অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। আখড়াবাড়ির বাসিন্দা কল্পনা বলেন, ‘দানবাক্সের টাকা যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং তা দিয়ে আখড়াবাড়ির উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লালন একাডেমি ও সরকারি উদ্যোগে তিরোধান দিবস এবং দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর ভক্ত সমাগম ঘটে, যারা মাজার দর্শনে এসে দান করেন। দানের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আখড়াবাড়ির ফকির-সাধুরা। এই টাকা দিয়ে আখড়াবাড়িতে উন্নয়নমূলক কাজ করা হোক।’।