শেষনিশ্বাস পর্যন্ত দেশের সেবা করতে চাই: নরেন্দ্র মোদি

Published: November 1, 2026, 1:24 pm

দিল্লিতে বিরোধীদের বড় ধরনের জনসভার দুই দিন আগেই গুজরাটের বানাসকাণ্ঠায় দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। তার এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে—তিনি কি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন? গুজরাটের বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় অবসরগ্রহণের যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মোদি ঘোষণা করেছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কাজ করে যাবেন। শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি সেবার নীতিকেই ব্রত হিসেবে মেনে চলব—আমার মানুষের সেবা, প্রতিটি মানুষের সেবা।’। মোদির এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী ও ক্ষমতাসীন দুই শিবিরেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে কি নরেন্দ্র মোদি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার বিজেপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথাই বলছেন। তিনি বলেন, গুজরাটবাসীই তাঁকে সবকিছু শিখিয়েছেন।

বানাসকাণ্ঠার জনসভায় নিজের অতীতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মোদি বলেন, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই জেলাতেই তিনি প্রথম বড় জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি তাঁর অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম প্রধান জনসভাও এই বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত হয়েছিল।

এক আবেগঘন মুহূর্তে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, তাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ না ডেকে যেন পুরোনো পরিচয়ে ‘নরেন্দ্র ভাই’ বলেই সম্বোধন করা হয়। তিনি জানান, গুজরাটের মানুষই তাকে প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন, যা তাকে সাধারণ এক পরিবার থেকে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তিনি এমন এক সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে কেউ পঞ্চায়েতপ্রধান হওয়ার স্বপ্নও কোনো দিন দেখেননি। সেই সাধারণ মানুষ থেকে আজ তিনি যেখানে পৌঁছেছেন, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি দেশের জনগণের ভালোবাসাকেই দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলোর কথা স্মরণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, শুরুতে তাঁর সরকারি নথি বা প্রশাসনিক নীতি সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না।

এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ১৪ হাজার কোটি রুপিরও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। কৃষকদের দেশের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে মোদি বলেন, তার সরকার সব সময় কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। বিগত দশ বছরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের ব্যবহারের ফলে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জনসভায় মোদি কৃষকদের উন্নত ভারত গড়ার অন্যতম শক্ত খুঁটি বলে উল্লেখ করে জানান, বর্তমান সরকার সর্বদা কৃষকদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। পশুপালন খাতে গ্রামীণ অর্থনীতির একটি অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত এক দশকে এই সেক্টরে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

পূর্ববর্তী সরকারগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে মোদি অভিযোগ করেন, তারা অতীতে কৃষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ এনডিএ সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) সংক্রান্ত সব ওয়াদা রক্ষা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তার সরকারের দূরদর্শী নীতির কারণে কৃষকরা প্রায় ৫০ লাখ কোটি রুপি পেয়েছেন এবং একই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রসঙ্গত, গুজরাটে দুই দিনের সফরের সময় তিনি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেভাদিয়ায় আয়োজিত ‘একতা দিবস’-এর কর্মসূচিতেও অংশ নেন।