৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে চালু হলো জাহাজ চলাচল

Published: November 5, 2026, 2:27 am

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কক্সবাজার থেকে আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ যাতায়াত শুরু করেছে। অনুমোদিত জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে প্রশাসনিক সব কার্যক্রম ও অনুমতি মিললে জাহাজগুলো কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করে।

এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, পর্যটকের সংখ্যা বিবেচনা না করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাহাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের অনুমতি দিলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় এতদিন নৌযান চলাচল সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর এই নৌপথ সুগম হয়।

অনুমোদন পাওয়া এই তিন জাহাজে মোট ২ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে। যার মধ্যে এমভি বার আউলিয়ায় ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলিতে ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফে ৭১৬ জন যাত্রী উঠতে পারবেন। সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে বেলা আড়াইটায় দ্বীপ থেকে ফিরবে। এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে রওনা হয়ে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ফিরতি যাত্রা করবে। অন্যদিকে এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে বিকেল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।

সরকারি সংশোধিত নির্দেশনা অনুসারে, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াত ও রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণের অনুমতি পাবেন। প্রতি পর্যটককে পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষার জন্য ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি ভ্রমণে ট্রাভেল পাস নেওয়া এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রাতের বেলা সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা কিংবা বারবিকিউ পার্টি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল কেনাবেচা করা যাবে না। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিসাধন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এদিকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত করা হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছে। তবে পর্যটন কার্যক্রমের পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।