সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর এখন আর চূড়ান্ত নয়, যেভাবে সমন্বয় করবেন

Published: November 5, 2026, 2:45 am

চলতি অর্থবছর থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর প্রযোজ্য উৎসে করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া মুনাফার ওপর কাটা করকে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে বিনিয়োগকারীর বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে এই করের হিসাব সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আবার একবার কেটে নেওয়ার পর তা আর ফেরতও পাওয়া যেত না।

আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ বা টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে কেটে রাখা করই ছিল চূড়ান্ত দায়মুক্তি। এর মানে হলো, ওই কর দেওয়ার পর আর কোনো দায় থাকত না এবং কেটে নেওয়া কর ফেরত পাওয়ারও উপায় ছিল না। নতুন ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্রের আয়ের সঙ্গে করদাতার অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় যোগ করে মোট বার্ষিক আয় নির্ধারণ করা হবে। এরপর নির্ধারিত করহার অনুযায়ী বছর শেষে প্রকৃত করের হিসাব হবে। এবার দেখা যাক, এই নতুন নিয়মে কার লাভ হলো, কার ক্ষতি হলো। এখন থেকে সঞ্চয়পত্রের আয় করদাতার মোট আয়ের সঙ্গে যোগ হবে এবং ব্যক্তিভেদে নির্ধারিত করধাপ অনুযায়ী কর ধার্য করা হবে।

প্রত্যেক করদাতাকে তাঁদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে ১০, ১৫, ২০, ২৫ ও ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। নতুন নিয়মে যাঁরা ১০ শতাংশের বেশি কর ধাপে রয়েছেন, তাঁদের করের বোঝা কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ, এখন আর কেবল ১০ শতাংশ কর দিয়ে দায়মুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই; বরং প্রকৃত আয় অনুযায়ী উচ্চতর হারে কর দিতে হবে। এতে সীমিত আয় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা যাঁরা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তাঁদের সুবিধা হবে, করের বোঝা কমবে।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক। একজন করদাতা সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে এক লাখ টাকা মুনাফা পেয়েছেন, যার ওপর ১০ শতাংশ হারে ১০ হাজার টাকা উৎসে কর কেটে রাখা হয়েছে। অন্যান্য উৎস মিলিয়ে তাঁর বার্ষিক করযোগ্য আয় সাড়ে চার লাখ টাকা। করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা বাদ দিলে বাকি ৫০ হাজার টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে ৫ হাজার টাকা কর হয়। যেহেতু তিনি আগে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে রেখেছেন, তাই রিটার্ন জমার সময় তিনি অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা ফেরত দাবি করতে পারবেন। আবার বাড়তি কর হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগকে বাকি টাকা দিতে হবে। কিন্তু আপনি সঞ্চয়পত্রে অগ্রিম কর হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ফেলেছেন।

তবে উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন।

মনে করুন, একজন করদাতা সঞ্চয়পত্র থেকে ৫ লাখ টাকা মুনাফা পেয়েছেন এবং উৎসে ৫০ হাজার টাকা কর দিয়েছেন। এছাড়া বেতন বা অন্যান্য উৎস থেকে তাঁর আয় ৪ লাখ টাকা, মোট আয় ৯ লাখ টাকা। এখন কর কাঠামো অনুযায়ী প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত, পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে ৩০ হাজার এবং পরের ২ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ৩০ হাজার টাকা কর বসবে। অর্থাৎ তাঁর মোট কর হবে ৬০ হাজার টাকা। যেহেতু তিনি ৫০ হাজার টাকা আগেই দিয়েছেন, তাই তাঁকে বাড়তি ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

যাঁদের করযোগ্য আয় নেই বা করহার ১০ শতাংশের নিচে, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। করের বাড়তি অংশ ফেরত পাওয়ার জন্য তাঁদের অবশ্যই টিআইএন সংগ্রহ করে নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। রিফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার সময় ব্যাংক হিসাব নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে।

কর কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ও উৎসে কর কাটার প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাই করবেন। সব ঠিক থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। সঞ্চয়পত্রের ছোট বিনিয়োগকারী, যাঁদের আয়ের পরিমাণ কম, তাঁদের করের বোঝা লাঘব করতে এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।