অভিনয় পেশা হিসেবে নেওয়া জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত: শরীফুল রাজ

Published: October 26, 2026, 3:56 am

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর সাফল্য এবং ‘জীবন অপেরা’সহ তিনটি সিনেমার কাজের ব্যস্ততার পর এখন ঈদের সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন চিত্রনায়ক শরীফুল রাজ। দীর্ঘ এক দশকের ক্যারিয়ারের নানা বাঁকবদলে নিজের অবস্থান ও ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা শহরের বাইরে ব্যক্তিগত ও কাজের প্রয়োজনে ভ্রমণ করছেন রাজ। এমন একটা লোকেশনে ছিলাম, কথা বলার মতো অবস্থাই ছিল না, নেটওয়ার্কও ছিল না। তখন তো ভাবিই নাই, আজকের মতো সিনেমাই করে যাব। পেশা হিসেবে অভিনয়কে নেওয়ার পরিকল্পনা তখন ছিল।

সম্প্রতি চরকিতে মুক্তি পেয়েছে রাজের অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘আইসক্রিম’। প্রথম সিনেমা থেকে কোন শিক্ষাটা এখনো কাজে লাগছে। একটি সিনেমা কত গভীর থেকে তারা দেখে, সেটা নতুন অভিজ্ঞতা।

সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষ্যে পরিচালক রেদওয়ান রনির জন্মদিনে একটি আড্ডার আয়োজন করা হয়েছিল।

সেই স্মৃতিচারণ করে রাজ বলেন, ১০ বছর আগে কাজের শুরুটা কেমন ছিল, তা এখন ভাবলে অবাক লাগে। ১০ বছর পর ‘আইসক্রিম’ চরকিতে মুক্তি পেল, দেখলাম সেই রাতে আড্ডাও জমেছিল। সেই উপলক্ষেই সিনেমাটি ঘিরে আড্ডা হলো।

তখন কাজের গভীরতা বা ক্যারিয়ারের কথা সেভাবে ভাবিনি, কেবল শুটিংয়ের আনন্দেই মেতে থাকতাম। যখন ফোন করেন, তখন আমি দেবতাখুমে বোট চালাচ্ছিলাম।

সেই সময়ে কাজ করা গুণী শিল্পী এ টি এম শামসুজ্জামান ও দিতি আডিসহ আমাদের সিনেমার ৪ জন শিল্পী এখন আর নেই, তাঁদের অভাবটা খুব অনুভব করি। সেই সময়ে শুটিংয়ে আমরা অনেক মজা করতাম। অনেক দৃশ্যের শুটিং নিয়ে মজার ঘটনা ঘটত। শুটিংয়ে গিয়েই অনেক কিছু জানলাম, বুঝলাম, শিখলাম। সেখানে আমাদের সিনেমাটিকে বিভিন্ন দেশের দর্শক কানেক্ট করতে পারল, গল্প, প্রেক্ষাপট বিভিন্ন কিছু নিয়ে প্রশ্ন করল। আমাদের দেশের সিনেমা নিয়ে তাদের জানার আগ্রহ বুঝতে পারলাম।

অভিনয় জীবনের শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রনি ভাইয়ের হাত ধরে অভিনয়ের হাতেখড়ি। শুটিং সেটে প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে এই পেশাকে এনজয় করতে হয়। প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে সংশয় থাকলেও, এখন অভিনয়ই আমার জীবনের সুন্দর সিদ্ধান্ত। এখন সিনেমা কম করলেও মানসম্মত চিত্রনাট্য বেছে নিচ্ছি, যা নিয়ে আমি বেশ তৃপ্ত। অনেকেই আমাকে এটাও বলেন, নাজিফা তুষির সঙ্গে প্রথম সিনেমা, কিন্তু ১০ বছরে আর কোনো সিনেমা করলাম না কেন। কিন্তু কী হবে, না-হবে—এটা বুঝে উঠতে সময় লেগেছে। অনেকের কাছে আমার কাজের সংখ্যা কম মনে হতে পারে; তবে সব মিলিয়ে সিনেমা নিয়ে আমি ভালো আছি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমার অবস্থা নিয়ে রাজের পর্যবেক্ষণ হলো, সিঙ্গেল স্ক্রিনের দিন ফুরিয়ে আসছে। ধুলাবালি ও জরাজীর্ণ পরিবেশের পরিবর্তে আধুনিক ও গোছানো প্রেক্ষাগৃহের বিকল্প নেই। তবে হল ঠিক করলেই হবে না, বছরে অন্তত ১২টি ভালো সিনেমা নিয়মিত বিরতিতে মুক্তি দেওয়া জরুরি। ঈদ কেন্দ্রিক সিনেমা মুক্তির যে চর্চা তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। ধুলাবালু, জরাজীর্ণ, এসি নেই—এমন পরিবেশে দর্শক সিনেমা দেখবে না, স্বাভাবিক। এখন ঈদ ছাড়া সিনেমা মুক্তির চর্চাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

হংকং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশ নেওয়া দারুণ এক অভিজ্ঞতা। ভিন্ন ভাষার ও সংস্কৃতির দর্শকরা আমাদের গল্পকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তা নতুন মাত্রা দিয়েছে। এছাড়া পছন্দের নির্মাতা ওং কার-ওয়াইয়ের দেশ হওয়ায় সফরটি ছিল স্মরণীয়।

সিনেমা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

  • শাকিব খানের সঙ্গে কাজ: শাকিব ভাই একজন গুণী শিল্পী, সুযোগ হলে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই।
  • সহশিল্পী নাজিফা তুষি: আমাদের প্রথম সিনেমার পর দশ বছরে আর কাজ হয়নি, তবে সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই আবার কাজ করব।
  • সাম্প্রতিক পছন্দ: ব্যস্ততায় অনেক সিনেমা দেখা না হলেও ‘মুসাফির ক্যাফে’ ভালো লেগেছে এবং আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনারিতুর ‘ডিগার’ দেখার তালিকায় আছে।
  • নতুন শুটিং: ঈদের সিনেমার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু না বলা গেলেও সব ঠিক থাকলে শিগগিরই কাজ শুরু করব।