হত্যার হুমকি ও মামলার মুখে তানজিন তিশা, যা বললেন অভিনেত্রী

Published: October 28, 2026, 8:09 am

মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন করে একটি মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাঁকে আগামী ২৩ নভেম্বর সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন। এই আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিশা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জন ও ক্যারিয়ার ধ্বংস করার পেছনে কারা এবং কেন এসব ঘৃণ্য পরিকল্পনা করছে। তানজিন তিশা তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মামলা কি এতই সহজ।

ফেসবুক পোস্টে তিশা দুটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর ছবির কোলাজ ব্যবহার করে অভিযোগ করেন, তাঁর একটি বক্তব্যের অডিও রেকর্ড কেটে কাটছাঁট করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। অভিনেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘এত বড় পরিকল্পনা? একজন মানুষের সম্মান ও ক্যারিয়ার ধ্বংস করার এমন বিশাল প্রচেষ্টা কেন এবং এর পেছনে কারা রয়েছেন?’ একজনের নাম একের পর এক অভিযোগ ছড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে সম্মানহানি করা হয়?’। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তাঁর কাছ থেকে শাড়িটি নিয়েছিলেন।

অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা তা যাচাই না করে ছড়ানোর বিপক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তিশা। তিনি মনে করেন, সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করা আদালতের দায়িত্ব। অনেক তথ্যপ্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এসব প্রমাণের সত্যতা জনসমক্ষে তুলে ধরার দায়িত্ব কি আদালতের, নাকি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার? কোনো অভিযোগই যে ঢালাওভাবে সত্য হতে পারে না, তা-ও তিনি মনে করিয়ে দেন। তাঁর মতে, কোনো অভিযোগ উঠলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়; বরং সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ হওয়া উচিত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায়। অভিযোগ করলেই সত্য হয়ে যায়।

তিশার বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা শুরু হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে, যখন অনলাইন পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপোনিয়া’-এর মালিক বিলকিস ওয়াজির অভিযোগ তোলেন যে, ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি জামদানি শাড়ি প্রচারণার শর্তে নিয়ে তিশা তা পালন করেননি। তিশা অবশ্য উপহার পাওয়ার দাবি তুলে অভিযোগটি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। এই প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর বাইরে ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় শাড়ি চাওয়া নিয়ে তিশার বিরুদ্ধে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওই মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ২৫ অক্টোবর মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেন। আদালত আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পরদিন সেটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ফেরত দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনার এক দিন পর, ২৬ অক্টোবর, সানায়া চৌধুরী পুনরায় তিশার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে এবং মামলা তুলে না নিলে বাংলাদেশে থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।