স্পেনের টোলেডো প্রদেশের উরদা শহরের কাছে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সকালে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডিতে ১০৭ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। উদ্ধারকর্মীরা এখনও দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের বগিগুলোর ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ জানিয়েছেন, বগির গভীর অংশ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্যমতে, বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সিগন্যাল সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে রেনফে কোম্পানির একটি ট্রেনকে স্বাভাবিক গতিতে চলার নির্দেশ দেয়া হয়। অথচ ওই লাইনে ট্রেনের থামার সংকেত ছিল। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভুল নির্দেশনার পর ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার এগিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিও কোম্পানির অন্য একটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরিবহনমন্ত্রী একে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের চরম গাফিলতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। দুটি ট্রেন মিলিয়ে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। এর আগে এক কর্মীর ভুলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন তথ্যে মাদ্রিদের কমান্ড সেন্টারের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
চলতি বছর একই রুটে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। এর আগে গত জানুয়ারিতেও একই এলাকায় সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এক বছরে দুটি বড় দুর্ঘটনার পর স্পেনের রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে তুলেছে। বিরোধী দলীয় নেতা আলবার্তো নুনেজ ফেইজো পুরো রেল নেটওয়ার্কের স্বাধীন পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। শোকের আবহ ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের নির্ধারিত সব ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিহতের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন।








