ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, আশাবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প

Published: October 31, 2026, 4:47 am

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানসাস সিটির বেতারকেন্দ্র কেসিএমওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এ লড়াই শিগগিরই সমাপ্তির পথে রয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষ করার নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা বা কৌশলের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান ভূখণ্ডে বড় কোনো সামরিক হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইরানই আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে: ট্রাম্প।

তবে যুদ্ধের সমাপ্তি টানার বিষয়ে ট্রাম্প এমন নিশ্চয়তা চেয়েছেন যাতে তেহরান ভবিষ্যতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

এদিকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাতার সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়েই। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। গতকাল কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আবারও তেহরানে যান।

দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারস্পরিক শর্তের ভিন্নতা। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করুক। বিপরীতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাতটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধের অবসান, হামলা না চালানোর গ্যারান্টি এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া। অন্যদিকে ইরান আগে দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির খবরও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ট্রাম্পকে ইরানে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে অবহিত করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের পরপরই ইরানে যৌথ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ইরানের নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো হতে পারে সম্ভাব্য হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে সামরিক কৌশল ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখছে। নির্বাচনের আগে বড় কোনো যুদ্ধের ঝুঁকি ট্রাম্প নেবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জেডি ভ্যান্সের কথায়ও বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে; তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ট্রাম্প এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে দেবেন না। শেষ পর্যন্ত এটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। আল–জাজিরাকে কয়েকজন বিশ্লেষক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার পথও খোলা রাখছে।