আজ ৩ নভেম্বর জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমীর জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করা ঢালিউডের এই তারকা ৫৩ বছরে পা দিলেন। বয়স বেড়ে যাওয়া নিয়ে কখনোই আড়াল করার চেষ্টা করেননি তিনি। নিজের বয়স প্রসঙ্গে রসিকতা করে একবার এই অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি দেশের একমাত্র নায়িকা, যাঁর আসল বয়স সবার কাছে স্পষ্টভাবে জানা। বয়স কেবলই একটি সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি মনে করেন, মনের চঞ্চলতা ও কাজের দায়িত্ববোধ বজায় থাকলে বয়সের হিসাব কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢালিউডে মৌসুমীর রূপালী পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্য দিয়ে তিনি বড় পর্দায় তাঁর অভিনয় যাত্রা শুরু করেন। প্রথম ছবিতেই নায়ক হিসেবে সহশিল্পী ছিলেন নতুন মুখ সালমান শাহ। সিনেমাটি ব্যবসাসফল হওয়ার পাশাপাশি রাতারাতি এই জুটিকে তারকার খ্যাতি এনে দেয়। পরবর্তীতে ‘অন্তরে অন্তরে’সহ একাধিক ছবিতে জুটি বেঁধে দর্শকদের মন জয় করেন তারা। সালমানের পাশাপাশি নায়ক ওমর সানীর সঙ্গেও তাঁর জুটি ঢালিউডে বিশেষ পরিচিতি লাভ করে। ‘দোলা’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে রূপ নেয়। পর্দায় রসায়ন জমানো এই জুটি বাস্তবেও এক হয়ে ফারদীন এহসান স্বাধীন ও ফাইজা আবিহা নামের দুই সন্তানের জনক-জননী হন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মৌসুমী অসংখ্য সফল ছবি উপহার দিয়েছেন এবং অভিনয়ে অসাধারণ অবদানের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি গান গেয়েছেন, এমনকি সিনেমা পরিচালনা ও প্রযোজনার দায়িত্বও সামলেছেন। নব্বই দশকের অনেক সহশিল্পী অভিনয় ছাড়লেও তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিয়মিত পর্দায় হাজির হয়েছেন।
গত তিন বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এই তারকা। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তাঁর মেয়ে ফাইজা ঢাকার ও লেভেল ও এ লেভেল শেষ করে নিউ ইয়র্কে কসমেটোলজি নিয়ে পড়াশোনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থ ও স্মৃতিভ্রংশে ভুগতে থাকা মায়ের সেবাশুশ্রূষা এবং পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন মৌসুমী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রতি দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন মেলায় তাঁর যাতায়াতের জটিলতা কেটেছে। তবে মায়ের শারীরিক অবস্থা পরিবর্তনশীল হওয়ায় এখনই তাঁর দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। ক্যারিয়ারের ব্যস্ততম সময়ে মাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার যে আক্ষেপ ছিল, এই সুযোগে সেই অপূর্ণতা দূর করছেন তিনি।
বর্তমানে মৌসুমীর পরিবারের সদস্যরা তিন দেশে ছড়িয়ে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েকে নিয়ে মৌসুমী থাকেন, আর তাঁর বড় ছেলে ফারদীন দুবাইয়ের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। একসময় ছেলে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনার দিকে ঝুঁকে পড়লেও এখন নতুন পেশায় মনোযোগী। স্বামী ওমর সানী বাংলাদেশে থেকে নিজেদের পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও প্রতিদিন ভিডিওকলে তাঁদের যোগাযোগ বজায় থাকে। সন্তানদের ক্যারিয়ার বা জীবনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে স্বাধীনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় মৌসুমী ‘কন্ট্যাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি টেলিফিল্মের কাজে অংশ নেন, যা পরে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র আকারে মুক্তি পায়। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন সিনেমা বা নিয়মিত অভিনয়ে ফেরার ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। ভবিষ্যতে নিজের ‘মৌসুমী কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর পরিধি বাড়াতে চান তিনি। এর পাশাপাশি একটি বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলার স্বপ্ন লালন করছেন এই অভিনেত্রী।








