সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে মরদেহ বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিহতের মরদেহ গ্রহণ করেন। এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের ওই বিমানবন্দরে চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে শাহেদ আহম্মেদ অন্যতম। ওই হামলায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি নামে আরেক বাংলাদেশিও প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সময় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে লাশ দাফন ও যাতায়াত বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। ওই হামলায় নিহত অন্য বাংলাদেশি হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের ওমরাহ ভিসাধারী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
নিহতের কর্মস্থলের প্রতিষ্ঠান ‘সা’দ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি’ থেকে শাহেদের বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অর্থ দ্রুতই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া শাহেদের বিএমইটি কার্ড বা বৈধতার প্রমাণ থাকলে পরবর্তী ধাপে আরও ৩ লাখ টাকা এবং বীমা কাভারেজের সুবিধা থাকলে পরিবারটি আরও ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই পুরো প্রক্রিয়ার বিষয়টি তদারকি করছে। নিহত কর্মীর বিএমইটি কার্ড বা বৈধতার পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে পরবর্তীতে আরও ৩ লাখ টাকা পেতে পারেন।

