কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশ আবার সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার এই যৌথ অভিযানে ৩৫১ জনকে আটক করা হয়। অভিযানের বিষয়টি আজ শুক্রবার দুপুরে নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং: রতনের পাশাপাশি ‘পয়েন্ট সাব্বির’ ও ‘কিং মেকার’ গ্রেপ্তার। ‘পিএক্স ১০’ ও ‘১২০৭’ নামে দুটি কিশোর গ্যাং কুমিল্লার দুই উপজেলায় তৎপর।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অন্যদিকে অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় বাকি ২১৯ জনকে স্বজনদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে মুচলেকায় ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিরা পুলিশের নিয়মিত নজরদারিতে থাকবেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার ১৮টি থানা এলাকা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল যৌথভাবে এই অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানের সময় জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরজমিনে উপস্থিত ছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুরোনো কোনো পরোয়ানা আছে কিনা এবং কিশোর গ্যাং বা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কতটুকু, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এর আগেও গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা দুই রাতে অভিযান চালিয়ে ৪৫০ জনকে আটক করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যার মধ্যে ২২ অক্টোবর ১৭৫ জন এবং ২৩ অক্টোবর ২৭৫ জন আটক হন। ২৩ অক্টোবর আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পরদিন গত ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার প্রাণহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্তে এই অপরাধের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের স্পষ্ট যোগসাজশ উঠে আসলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।
কিশোর অপরাধ দমনে সর্বস্তরের দাবির মুখে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলাজুড়ে এই বিশেষ অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা দিয়ে স্বজনদের জিম্মায় ছাড়া হয় এবং ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করেই কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এরপর কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়।








